প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের ভালো-মন্দ দিক তুলে ধরা বাপা’র নৈতিক দায়িত্ব

মতিনুজ্জামান মিটু: বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর সহ সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক বলেছেন, দেশবাসীর স্বার্থে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের ভালো-মন্দ দিক তুলে ধরা বাপা’র নৈতিক দায়িত্ব।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ২২/১ তোপখানা রোডের বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ এর ২য় তলার সম্মেলন কক্ষে আগামী ৪-৫ জানুয়ারি-২০১৯ অনুষ্ঠিতব্য ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ ও বাংলাদেশের স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন’ বিষয়ক বিশেষ সম্মেলন আয়োজনের ঘোষনা ও আয়োজন সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি’ প্রচার উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ একটি মহা পরিকল্পনা। আমাদের এ স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হলে বেশ কিছু বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হবে। বাপা এবং সরকার একে অন্যের প্রতিপক্ষ নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে পরিপূরক। দেশের যে কোন উন্নয়নমূলক ভালো কাজে বাপা সবসময় সরকারকে সহযোগীতা করে আসছে। দেশবাসীর স্বার্থে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের ভালো এবং মন্দ দিকগুলো জনগনের সামনে তুলে ধরা বাপা’র নৈতিক দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) আগামী ৪-৫ জানুয়ারি বদ্বীপ সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সেখানে এ প্রকল্পের ভালো ও মন্দ দিকগুলো জনগনের সামনে তুলে ধরা হবে।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত মূল বক্তব্যে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব ও বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, স¤প্রতি বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটি (একনেক) ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ নামক একটি ব্যাপক এবং সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের আলোকে বাংলাদেশের পানি এবং ভূ-সম্পদের উত্তম ব্যবহারের একটি পূর্ণাংগিক (holistic) কর্মকৌশল নির্ধারণ করাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য বলে প্রতীয়মান হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম, বরেন্দ্রভূমি, এবং হাওর অঞ্চলসহ প্রায় সমগ্র বাংলাদেশকেই এই পরিকল্পনার আওতায় ধরা হয়েছে। ইতিপূর্বে, ১৯৬৪ সনে, বাংলাদেশ (তদানিন্ত পূর্ব পাকিস্তান) পানি উন্নয়ন বিষয়ক “মাস্টার প্ল্যান” গ্রহণ এবং বহুলাংশে অনুসরণ করেছিল। সেই মহাপরিকল্পনার বহু প্রকল্পই প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
তিনি বলেন, গত প্রায় ৬০ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড মূলত দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে কাজ করেছে। এ সময়ে তাদের সব কাজই ভাল হয়েছে তা বলা যাবেনা। বরং অভিযোগ আছে যে, বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত তাদের পোল্ডার ও জল কপাট দেশের প্রায় ৫০০ শত নদীকে মৃত্যুর মূখে ঠেলে দিয়েছে।

বড়াল নদীর কথা উল্লেখ করে বদ্বীপ পরিকল্পনা করতে গিয়ে মানুষের আন্দোলনে অর্জিত অন্যান্য ইতিবাচক কাজ (যেমন বড়াল নদী জল কপাট মুক্তকরণ) যেন বন্ধ হয়ে না যায় সেদিকে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এই পরিবেশবিদ। তিনি বলেন, সারা বিশ্বের জন্য নেয়া স্থায়িত্বশীল উন্নয়নকে বিবেচনায় রেখে বদ্বীপ পরিকল্পনার ২১০০ মূল্যায়ন ও তার পরিবেশ বান্ধব বাস্তবায়ন হবে আমাদের এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। এই সম্মেলনে বাপা ও বেন সরকারী বদ্বীপ পরিকল্পনাটিকে একটি ইতিবাচক বিতর্কের (positive discourse) মাধ্যমে মূল্যায়ন ও তার প্রয়োজনীয় সংশোধণ নিশ্চিত করতে চায়।
মিহির বিশ্বাস বলেন, ৪৭.৫০ কোটি (৪৭৫ মিলিয়ন) টাকা ব্যয়ে যে ডেল্টা প্লান তৈরী হয়েছে তাতে প্রকৃতি সংরক্ষণের বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নের উপর জোর দেয়া হয়েছে। এখানে আমাদের ডেল্টার সংরক্ষণ ও টেকসই করার প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রা অনুপস্থিত। প্রত্যক বছর জিডিপির ২.৫% ব্যয় করে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার পরেও দূর্যোগ এবং পরিবেশ দূষণ থেকে জনগণ রক্ষা পাবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।

শরীফ জামিল বলেন, প্রকল্পের প্রস্তাবিত ১৫টি আশু বিনিয়োগ প্রকল্প থেকে এত দ্রুত কিভাবে ৮০টি প্রকল্প প্রস্তুত হয় তা প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। প্রকৃতি ও নদী বিরোধী কোন পুরাতন প্রকল্প এতে যুক্ত করা সঙ্গত হবেনা।

বাপা’র যুগ্মসম্পাদক মিহির বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, সম্মেলন বিষয়ক বিভিন্ন উপ-কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিববৃন্দ যথাক্রমে অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, জাকির হোসেন, শরীফ জামিল, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা প্রমূখ। বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক জাহেদুর রহমানসহ বাপা-বেন এর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট গবেষক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত