Skip to main content

অনুরাগী-ভক্তের শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত আইয়ুব বাচ্চু

মহিব আল হাসান : এর আগে অনেকবার এমন ঘটনা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষা করেছেন। কখন তিনি আসবেন। তিনি এসেছেন, ছিল মঞ্চ হাতে ছিল তার প্রিয় গিটার। সবাইকে বলেছেন কেমন আছেন সবাই? তার রুপালি গিটারের জাদুতে ভক্তদের যেমন ভাঁসিয়েছেন তেমনি নিজে ভেঁসেছেন। আজ ঠিকই তিনি এসেছেন কিন্তু হাতে ছিল সেই গিটার, ছিল না মঞ্চ । এসেছিলেন নিথর দেহে। সেই মানুষটি আইয়ুব বাচ্চু, বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে যাকে কিংবদন্তি বলা হয়। জনপ্রিয় এই শিল্পী বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে গেলেন তিনি। শোকাহত কওে গেলেন পুরো দেশ। তার একখন্ড চিত্র যেন আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। কতটা আপন ছিলেন তিনি সকলের তা প্রমাণ করে দিলেন এই শিল্পী। শেষবারের মতো এই শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন ভক্তরা। শহীদ মিনারে ভীড় করেন হাজারো মানুষ। তাকে শ্রদ্ধ জানান শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের নেতারা। শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেকের চোখে ছিল জল, কেউবা কান্নার শব্দে পরিবেশ করেছিলেন থমথমে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রদ্ধা জানানো হয় তাকে। সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মাইকে যখন জানানো হয় এখন তাকে এখান থেকে জাতীয় ঈদগা মাঠে নিয়ে যাওয়া হবে তখন ভক্তদেও আহাজাড়ি আর পাঁচ মিনিট রাখেন একপলক আমরা দেখি তাকে। কিন্তু সময়ের সাথে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ পৌঁছায় দুপুর একটায়। জুম্মার নামাজ শেষে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মগবাজারে কাজি অফিস গলিতে আইয়ুব বাচ্চুর গান তৈরির কারখানা ‘স্টুডিও এবি কিচেন’-এ শেষবারের মতো তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। কথা সাহিত্যিক ও সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চু ক্ষণজন্মা। তিনি বাংলাদেশের ব্যান্ড আন্দোলনের একজন অন্যতম পথিকৃৎ। সুরে সুরে তিনি তিন প্রজন্মকে এক সুঁতোতে বেঁধেছিলেন। তার মতো শিল্পী সবার জন্য কুমার বিশ্বজিত বলেন, ‘বাঁচার দৌড় -সেই দৌড় প্রতিযোগিতায় আমার বন্ধুটি ফার্স্ট হয়ে গেল আজ। বাচ্চু ছাড়া আমি একা, বন্ধুহীন, পরাজিত একজন। থেমে গেল আমাদের দৌড় প্রতিযোগিতা।’ শ্রদ্ধা জানাতে এসে নাছির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, আইয়ুব বাচ্চু ছিল প্রচন্ড আবেগী। এ আবেগ তার জন্য কখনো ছিল সহায়ক, কখনো বাধা। তবে তিনি কখনো অন্য কারো জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াননি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, তার গানে ছিল দেশ মানুষের প্রতি ভালোবাসা। তিনি এদেশে ব্যান্ড সঙ্গীতকে অনেক উপরে নিয়ে গেছেন। ‘আইয়ুব বাচ্চু ক্ষণজন্মা। তিনি বাংলাদেশের ব্যান্ড আন্দোলনের একজন অন্যতম পথিকৃৎ। সুরে সুরে তিনি তিন প্রজন্মকে এক সুঁতোতে বেঁধেছিলেন। তার মতো শিল্পী সবার জন্য সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় জানাজা। চ্যানেল আইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ আবারও স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। সেখান থেকে চট্টগ্রামে নেয়া হবে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ। চট্টগ্রামের নিজ শহরের পারিবারিক কবরস্থানে শনিবার মায়ের কবরের পাশে আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ দাফন করা হবে।