প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রংপুরের ২শতাধিক ইটভাটার জন্য আমদানী করা হবে ২লাখ মে.টন কয়লা

মোস্তাফিজার রহমান বাবলু,রংপুর: চলতি মৌসুমে রংপুরের দুই শতাধীক ইটভাটায় কাজ করবেন এক লাখ শ্রমিক। সেইসাথে শ্রমিকের তৈরী ইট পোড়ানোর জন্য আমদানী করা হবে দুই লাখ মে.টন কয়লা। এসব কয়লা চড়া মূল্যে আমদানী করা হবে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।

জানা যায়, ইট তৈরীর উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি ও ইটের মূল্য কম পাওয়ার পরেও চলতি মৌসুমে নতুন ইট তৈরীর জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করেছে জেলার দুই শতাধীক ইটভাটা। ওই ইটভাটাগুলোতে পুরোদমে চলছে ময়লা-আবর্জণা পরিষ্কার ও উচু-নীচু স্থানগুলোকে সমতল করার কাজ। এজন্য শ্রমিকরা ড্রেজার মেশিন দিয়ে জমি সমতল করতে এখন ব্যস্ত। এবারে প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইটভাটাগুলোতে কর্মসংস্থান হবে এক লাখ শ্রমিকের। জেলার বিভিন্ন ইটভাটায় গিয়ে ইটভাটার মালিক ও শ্রমিকদের সাথে কথা হলে এসব এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও ইটভাটা মালিক আলহাজ্ব আব্দুর রশিদ সরকার এ প্রতিবেদককে জানান, বড়পুকুরিয়ার কয়লা সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে চড়া দামে কয়লা আমদানী করায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ইটভাটা মালিকরা। বড়পুকুরিয়ার কয়লা জ্বালানি হিসেবে ভালো ও মানসম্মত।
এই কয়লা সংগ্রহ করা গেলে লাভের মুখ দেখতো ইটভাটা মালিকরা। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ইট তৈরীতে ব্যয় হচ্ছে ৯ টাকা। আর প্রতিটি ইট বিক্রয় হচ্ছে ৮ টাকায়। এরপরেও আগামীতে লাভের আশায় এ ব্যবসা ধরে রাখা।

পীরগাছার ছাওলা ইউপির বামনপাড়া এলাকার বিএমবি ব্রিকস এর মালিক আব্দুল বাতেন মণ্ডল জানান, বিগত বছরগুলোতে এ ব্যবসা লাভজনক হলেও গত বছরে লোকসান গুনতে হয়েছে। ব্যবসা ধরে থাকলে আগামীতে লাভের মুখ দেখা সম্ভব হতে পারে এজন্য ব্যবসা ধরে রাখা। একই কথা জানালেন নব্দীগঞ্জ এলাকার আলহাজ্ব সোহরাব চৌধুরীর এমবিএস ব্রিকস এর ম্যানেজার ইয়াসিন আলীও।

ইটভাটার সার্বিক বিষয়ে কথা হয় জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম আজিজুল হকের সাথে। তিনি বলেন, ভাটা স্থাপন ও ইট পোড়ানো নিবন্ধন আইন-১৩ অনুযায়ী ইটভাটা পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। এরপরেও ইটের ব্যপক চাহিদা থাকায় মহামান্য আদালতের আদেশ অনুযায়ী কিছু সংখ্যক বৈধ লাইসেন্স আবার অনেকে কোনরকম কাগজ ছাড়াই ইটভাটা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি আরও বলেন, জেলায় দুই শতাধীক ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে সমিতির আওতায় রয়েছে ১২৫টি ইটভাটা। এর বাইরে রয়েছে আরও ৭৫টি। প্রতিটি ভাটায় উৎপাদিত হয় ৪০লাখ ইট। আর এখনও অবিক্রিত রয়েছে ১০লাখ ইট। এছাড়াও চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশী হওয়া, বড়পুকুরিয়ার কয়লা না পেয়ে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানী করা, তৈরীর আগে কমদামে আগাম ইট বিক্রয় করা ইটভাটায় লোকসানের কারণ বলে তিনি মনে করেন। তবে দেশীয় কয়লা নির্ভশীল হলে ইটভাটাগুলো লাভের মুখ দেখবে এমন প্রত্যাশা রয়েছে ইটভাটা মালিকদের।