প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাপাহারে কূপের পানিতে কেরোসিনের গন্ধ, মিলতে পারে জ্বালানি তেলের সন্ধান

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ: নওগাঁর সাপাহারে একটি রিং কুপ থেকে কেরোসিন তেলের গন্ধ ও তৈলাক্ত পানি উঠছে। উপজেলা সদর থেকে এক কিলোমিটার দূরে গোডাউন পাড়া গ্রামে গত ২০ দিন থেকে এ সন্ধান মিলেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন কূপটি দেখতে আসছেন। এলাকাবাসীরা মনে করছেন কুয়ার পানি পরীক্ষা করলেও হয়ত জ্বালানী তেলের খনির সন্ধ্যান মিলতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাপাহার উপজেলার সদর হতে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গোডাউন পাড়া গ্রাম। উপজেলাটি বরেন্দ্র ভূমি এলাকা হওয়ায় পানির স্তর অনেক নিচে। নলকূপ থেকে খাবারের পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হতো না। ফলে খাবার পানির তীব্র সংকটে ভুগতে হয়ে এলাকাবাসীদের। আর এ কারনেই খাবারের পানি সংগ্রহে গ্রামে গ্রামে কয়েকটি করে রিং কূপ বসানো হয়। কূয়াতে জমাকৃত পানি এলাকাবাসী খাবার, গোসল ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করতেন।

এ গ্রামের দফিজ উদ্দীনের (৬০) বাড়ীতে গত ২০ দিন থেকে পুরাতন একটি কূপে পানির সাথে কেরোসিন তেলের গন্ধ ও তৈলাক্ত আকারের পানি উঠছে। বেশ কিছু দিন থেকে পানির উপর তেলের স্তর জমে থাকায় পানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে না আসায় বাড়ির মালিক ওই কূপের সমস্ত পানি মটার দিয়ে নিষ্কাশন করে ফেলেন। কিন্তু তারপরও পানিতে একইভাবে কেরোসিন গন্ধযুক্ত তৈলাক্ত পানি উঠছে। কূপের ভিতর থেকে তৈলাক্ত পানি বের হওয়ার খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শতশত উৎসুক মানুষ সেখানে ভীড় করছে।

কূপের মালিক দফিজ উদ্দীন বলেন, গত ২০ বছর থেকে পরিবারের বিভিন্ন কাজে এমন কি প্রতিবেশীরা এই কূয়ার পানি ব্যবহার করে আসছেন। গত বছর কূয়া থেকে পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখান থেকে ভাল পানীয়জল পাওয়া যায়। এতোদিন পরিস্কার খাবার উপযোগী পানি পাওয়া গেলেও গত ২০ দিন থেকে কেরোসিন তেলের গন্ধ ও তৈলাক্ত পানি বের হচ্ছে।

উপজেলার শিমুলতলী গ্রামের সারোয়ার হোসেন বলেন, কূপ থেকে কেরোসিনের তেল উঠছে শুনে দেখতে এসেছি। পানির উপর তৈলাক্ত এক প্রকার পদার্থ ভাসছে। কূপের আসপাশে জ্বালানি তৈলের খনির সন্ধান মিলতে পারে। যার কারণে পানির সাথে দীর্ঘদিন পর চুয়ে চুয়ে কূপে আসছে।

সাপাহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: সবুর আলী বলেন, কূপ থেকে কেরোসিনের তেলজাতীয় পদার্থের মতো দেখেছেন এলাকাবাসী। দুর্গাপূজার কারণে ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। শনিবার (২০অক্টবর) ঘটনাস্থল পরিবদর্শণ করব। যদি তেল জাতীয় পদার্থের সন্ধ্যান পাওয়া যায় তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হবে।

নওগাঁ জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি এইমাত্র জানলাম। এক্ষুনি লোক পাঠিয়ে পানির নমুনা সংগ্রহ করছি। তারপর পরিক্ষা করলে বলতে পারব তৈলাক্ত পর্দাথটি আসলে কি। তবে এখন এই পানি খাওয়া মোটেও নিরাপদ নয়।

নওগাঁ সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডা: মুমিনুল হক বলেন, তৈলাক্ত পানি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পানি যদি গ্যাস ও আর্সেনিক বা যে কোন মাধ্যমে তৈলাক্ত হলে তা খাবার উপযোগী না। ওই কুপের পানি জনগণকে ব্যবহার না করার জন্য সর্তক করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ