প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাঁকার আগেই শেষ, পাওয়া হবে না পাঁকা কদবেলের স্বাদ

মতিনুজ্জামান মিটু: দুই একটি বাণিজ্যিক বাগান ছাড়া পাঁকার অনেক আগেই শেষ হয়েছে গাছের সব কদবেল। ফলে গাছে পাঁকা কদবেলের স্বাদ পাওয়া হবে না দেশের মানুষের। ফল চাষি সেলিম রেজা বলেন, কদবেল এমনই একটি ফল যা গাছ থেকে পেড়ে পাঁকানো যায় না। গাছে পেঁকেই মাটিতে পড়ে। সাধারণত নভেম্বর মাস থেকে কদবেল গাছে পাঁকতে থাকে। গাছে পাঁকার সময় আসেনি তবুও বিগত কয়েকমাস ধরে দেশের বাজারগুলো কদবেলে ছয়লাব হয়। কাঁচা কদবেল গাছ থেকে পেড়ে নানা কায়দায় পাঁকা কদবেল বলে বিক্রি হয়। অথচ এসব দেখার কেউ নেই।

তিনি বলেন, কদবেল গাছের মালিকরা আগেই তাদের গাছ ফল ব্যবসায়ীদের কাছে বেচে দেন। মধ্যস্বত্ত্বভোগি এই ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় গাছে থেকে কাঁচা কদবেল পেড়ে সিদ্ধ করে বা অন্যকোনো কায়দায় পাঁকিয়ে বাজারে তোলা হয়। একটি কদবেল ৪০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, দুই একটি ছাড়া এখনো দেশে কদবেলের বাণিজ্যিক বাগান গড়ে ওঠেনি। আমরা বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছি। আমাদের বাগানের গাছে বারমাসিসহ নানাজাতের কদবেল আছে। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি এসব গাছের কদবেল পাওয়া যাবে। বাণিজ্যিকভাবে কদবেল গাছের বাগান গড়ে তোলা ছাড়া দেশের মানুষ প্রকৃত গাছে পাকা কদবেলের স্বাদ পাবেনা। তবে বাজারে তদারকি করা হলে অসময়ে গাছ থেকে কাঁচা কদবেল পেড়ে পাঁকা বলে বিক্রি এবং মানুষকে প্রতারিত করার সুযোগ কেউ পাবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইং সূত্রে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশের ১২৪৫ হেক্টর জমিতে ১৪ হাজার ৭৯১ মেট্রিক টন কদবেল উৎপাদন হয়। চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়েও বেশি কদবেল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, নঁওগা, নাটোর, বগুড়া, পাবনা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষিরা, ঢাকা, গাজিপুর, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানে বেশি হলেও সারাদেশেই কমবেশি কদবেল হয়ে থাকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ