Skip to main content

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাথরঘাটায় চলছে ইলিশ শিকার

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাথরঘাটায় চলছে ইলিশ শিকার
ইমরান হোসাইন, পাথরঘাটা (বরগুনা): বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিষখালী ও বলেশ্বর নদীতে অসাধু জেলেরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকা করছেন। নদীতে সব সময় অভিযান না থাকায় জেলেরা অবৈধ কারেন্টজাল দিয়ে ইলিশ শিকার করছেন। যদিও ইলিশ ধরা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলছে মৎস্য বিভাগ। এদিকে ইলিশ রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিষখালী ও বলেশ্বর নদীতে অভিযান চালিয়ে ৪ জেলেকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। সেইসঙ্গে তাদের ব্যবহৃত প্রায় ৬ হাজার ৩০০ মিটার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দিয়েছে। তারপরও যেন থামছে না মা ইলিশ শিকার। মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসন আরো সচেতন ও মাছ ধরা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে হয়তো বন্ধ হবে মা ইলিশ নিধন। প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ইলিশ ধরায়। কিন্তু তারপরও সুযোগ পেলেই রাতের আঁধারে চলছে ইলিশ শিকার। পাথরঘাটার কুপধন এলাকা সংলগ্ন বিষখালী নদীতে অনেকটা গোপনেই জেলেরা ব্যাস্ত থাকে ইলিশ শিকারে। আবার প্রকাশ্যে বাজারে বিক্রি করতে না পারায় নদীর পাড় থেকেই মানুষের কাছে বিক্রি করছে শিকারকৃত ইলিশ। নিধনকৃত মা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দুইশ থেকে আরাইশ টাকা কেজিতে। সস্তা দামে ইলিশের লোভে অনেকে জড়ো হচ্ছে বিষখালীর পাড়ে। জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর থেকে আগামী ২৮ অক্টোবর ইলিশ শিকারে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নিষিদ্ধ মৌসুমে ইলিশ শিকার বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে বিষখালী ও বলেশ্বরে। কিন্তু নদীর সীমানা বৃহৎ থাকায় অভিযানের ট্রলার একদিক থেকে অপরদিকে যেতে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এর ফাঁকে অসাধু জেলেরা ছোট ছোট নৌকা নিয়ে কৌশলে গভীর রাতে ও খুব ভোরে বিষখালীর বিভিন্ন এলাকায় ইলিশ শিকার করছেন। একাধিক জেলেরা আলাপকালে জানান, সব সময় ইলিশ পাওয়া যায় না। এখন এক ঘণ্টা নদীতে জাল ফেললে সহজেই ইলিশ পাওয়া যায়। অনেক সময় ধরা খেলে জেলেও যেতে হয়। সূত্র জানায়, নদীতে একাধিক অভিযান না থাকার সুযোগে জেলেরা খণ্ডকালীন সময়ে নদীতে নেমে পড়ে। এছাড়াও ছোট ছোট নৌকায় বড় ইঞ্জিন ব্যবহার করছে। তাদের গতি দ্রুত থাকায় অভিযানের ট্রলার দেখলেই তারা ইঞ্জিন চালু করে দ্রুত জাল ফেলে পালিয়ে যায়। মা ইলিশ রক্ষার জন্যে নদীতে সীবোর্ড, একাধিক অভিযান দল অত্যান্ত জরুরী বলে মনে করছেন সুধীমহল। এ বিষয় পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম জানান, ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু জেলে এ কাজ করছে। বিষখালী ও বলেশ্বরে মা ইলিশ রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে ৪ জেলেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রতেক জেলেকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমান কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং ইলিশগুলো এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়। তিনি আরো জানান, অভিযানের জন্য একটি সীবোর্ড থাকলে অভিযান পরিচালনা করতে আরও সুবিধা হত।

অন্যান্য সংবাদ