প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নয় বছরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বেড়েছে মাত্র ৩ হাজার কিলোমিটার

শাহীন চৌধুরী: দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে বিদ্যুতের সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন। কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন যে হারে বাড়ছে সেই হারে সঞ্চালন এবং বিতরণ লাইন বাড়েনি। ফলে দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও গ্রাহক ভোগান্তি কমেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত নয় বছরে বিদ্যুতের সঞ্চালন নির্মিত হয়েছে মাত্র ৩ হাজার কিলোমিটার।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বলেছে, গ্রীষ্মকাল তো বটেই, আবহাওয়া একটু উষ্ণ হলেই এলোমেলো হয়ে যায় বিদ্যুতের বিতরণ শিডিউল। উৎপাদনের হারের সঙ্গে বিতরণ সঞ্চালন মেলালেই স্পষ্ট হয় গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াতে এখনও পিছিয়ে আছে সরকার। বিপিডিবি জানায়, সারাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার ১৩৩ মেগাওয়াট। এরমধ্যে গ্রিডের বাইরে ক্যাপটিভ পাওয়ার (শিল্প কারখানার নিজস্ব উৎপাদন) রয়েছে ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ গ্রিডে সংযুক্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ১৭ হাজার ৩৩৩ মেগাওয়াট। গত সাড়ে নয় বছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ভাবে উন্নয়নের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে সেখানে বলা হচ্ছে, ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ সরকারি হিসেবে গ্রিড সংযুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা বেড়েছে ১২ হাজার ১৯১ মেগাওয়াট। উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির এ হার ২৪৬ ভাগ।

বিশ্লেষন করে দেখা যায়, এই হারে গ্রিড সাবস্টেশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়নি। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) বলছে, গ্রিড সাবস্টেশন ক্ষমতা ১৫ হাজার ৮৭০ এমভিএ (মেগাভোল্ট এম্পিয়ার) থেকে ৩৬ হাজার ০৪৬ এমভিএ তে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ সঞ্চালন ক্ষমতা বৃদ্ধির হার উৎপাদনের ২৪৬ ভাগের বিপরীতে ১২৭ দশমিক ১৩ ভাগ।

বিপিডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, যা উৎপাদন ক্ষমতা তার পুরোটা কোনও সময়ই উৎপাদন হয় না। ফলে বিতরণে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু দেশের নীট উৎপাদন বৃদ্ধি ধরে হিসেব করে দেখা গেছে, গ্রিড সাবস্টেশনের ক্ষমতা মোট উৎপাদনের চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৬২৩ মেগাওয়াট। আর ২০০৯ সালে সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৩ হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট। অর্থাৎ সর্বোচ্চ উৎপাদনে বেড়েছে ৮ হাজার ৩৫৫ মেগাওয়াট। শতকরা হিসেবে মোট গ্রিডভুক্ত বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাণও ২৫৫ দশমিক ৬৬ ভাগ।

পিজিসিবি সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ এবং ২০১৮ সালের সঞ্চালন লাইনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তিন হাজার ১২৩ কিলোমিটারের মতো সঞ্চালন লাইন বেড়েছে গত ৯ বছরে। ২০০৯ সালে দেশে মোট সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার কিলোমিটার। যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১২৩ কিলোমিটার। সূত্রমতে, ২০২১ সালের মধ্যে সারাদেশে আরও ১০ হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরমধ্যে কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, দেশে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে আসায় সঞ্চালন লাইন বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি এখনও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ। তাই সঞ্চালনের ক্ষেত্রে এখনও সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

সরকার দাবি করছে, এখন ৯০ ভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে তারা। যদিও এর মধ্যে ৫৮ লাখ সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীকে অন্তর্ভুক্ত করে হিসেব দেওয়ায় মোট বিদ্যুতের কত ভাগ গ্রিডের তা আলাদাভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে গ্রিডভুক্ত বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৮ লাখ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩ কোটি ১১ লাখ হয়েছে। আর এজন্য বিতরণ লাইন ২ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার থেকে ৪ লাখ ৫৭ হাজার কিলোমিটারে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

পিজিসিবি’র মতে, দেশের বড় সঞ্চালন লাইনগুলোর মধ্যে ৫টি সঞ্চালন লাইন ওভারলোডেড অবস্থায় আছে। এগুলো হচ্ছে আশুগঞ্জ-কিশোরগঞ্জ- ময়মনসিংহ, যশোর-নোয়াপাড়া, ঈশ্বরদী-ভেড়ামারা, চট্টগ্রাম –দোহাজারি-কক্সবাজার এবং হরিপুর-নরসিংদী সঞ্চালন লাইন। এসব কারণেই গরমে বেশি চাহিদা সময় বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হয়। তবে শীতকালে চাহিদা কমে গেলে সঞ্চালন লাইনগুলো চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।

পিজিসিবি আরও জানায়, তাদের চলমান প্রকল্পের সংখ্যা এখন ২৫টি। আর আগামীতে তারা আরও ১২টি সঞ্চালন প্রকল্প গ্রহণ করবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সমস্যা কমে আসবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ