প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলামে সহনশীলতা ও সম্প্রীতি

আহমদ আবদুল্লাহ : সহনশীলতা আমাদের জীবনের একটি বিশেষ গুণ। মানুষের ইহকালীন জীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করার ব্যাপারে ইসলামের বিধান অনুযায়ী ধৈর্য ও সহনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবন-ব্যবস্থা যার মূল উদ্দেশ্য হলো মানবকল্যাণ। আর ইসলামী শরীয়তের সকল প্রকার আইন-কানুন ও বিধি- বিধানের লক্ষ্যই হল মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধন করা।

মানুষ সারা জীবন বিভিন্ন অবস্থার সম্মুখীন হয়। সে কখনো সুখের সম্মুখিন হয়, কখনো দুখ-কষ্টের মুখোমুখি হয়, কখনো পাপে নিমজ্জিত হয়, আবার কখনো বা অন্যায়-অত্যাচারে নিপতিত হয়। এসব অবস্থায় মানুষকে চরম ধৈর্যধারণ ও পরম সহনশীলতা অবলম্বনের জন্য ইসলাম জোরালো তাগিদ দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা সহনশীলতা ও নামাজের মাধ্যমে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয় আল¬াহ সহনশীলতাদের সাথে আছেন। (সুরা বাকারা: ১৫৩)।

ইসলামের পরিভাষায় বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, রোগ-শোক, ক্ষুদা- তৃষ্ণা, অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতন, দ্বন্দ্ব-কলহ, বিবাদ-বিসম্বাদ, বন্যা-খরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি যাবতীয় বালা মসিবতে কোনরকম বিচলিত না হয়ে এবং আনন্দ ও সুখে আত্মহারা না হয়ে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্ল¬াহর ওপর ভরসা করে যথাসম্ভব শান্ত বিন¤্রভাবে আল্লাহ ও তার রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার নামই সবর। এ সবরের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ধৈর্যধারণ ও সহনশীলতা প্রদর্শন, যার অনুশীলন ব্যতীত ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে সাফল্য আশা করা যায় না। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি শৃংখলা ও কল্যাণকর জীবন যাপনের জন্য এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।

মানুষ যখন দু:খ-কষ্টে পতিত হয়ে অত্যন্ত বিচলিত হয় তখন সে দিশেহারা অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার কুকর্ম ও অসৎ কাজ করতে থাকে। পক্ষান্তরে মানুষ যদি বিপদ-আপদে অযথা বিচলিত না হয়ে আল¬াহর ওপর পূর্ণ ভরসা করে চরম ধৈর্যধারণ ও পরম সহনশীলতা প্রদর্শন করে তাহলে সে দয়াময় আল্ল¬াহর নেয়ামতপ্রাপ্ত হয়। এমনিভাবে মানুষ যদি কোনো সুখ-শান্তির মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে আনন্দে আত্মহারা হয় তখন সে বিপদগামী হতে পারে এবং তার অমঙ্গল হয়। আর যদি সে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ও আনন্দ-উল¬াসে আত্মহারা না হয়ে কেবল পরম করুণাময় মহান আল্ল¬াহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে, তাহলে আল্ল¬াহ তাকে দয়াপরবশ হয়ে অশেষ কল্যাণ দান করেন।

মানুষের পার্থিব জীবনে সুখ-দু:খ এই উভয় অবস্থায় আল্ল¬াহ তায়ালার ওপর অটল থাকার নামই সবর বা ধৈর্য তথা সহনশীলতা। যদিও ধৈর্যধারণ করা খুবই কঠিন ও কষ্টসাধ্য কাজ, তথাপি এটি এমন এক মহৎ মানবিক গুণ, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণের জন্য এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। যারা ধৈর্যধারণ ও সহনশীলতা প্রদর্শন করে মহান আল্ল¬াহ রাব্বুল আলামীন তাদের অগণিত প্রতিদান দিয়ে থাকেন। পবিত্র কুরআনে আল্ল¬াহ তায়ালা বলেন, ‘অবশ্যই সহনশীলদের প্রতিদান পূর্ণভাবে প্রদান করা হবে।’ (সুরা জুমার: ১০)।

ইসলামের দৃষ্টিতে ধৈর্য ও সহনশীলতা মানুষের ঈমানকে পরিপক্ক করে। ঈমানের যতগুলো শাখা-প্রশাখা রয়েছে, তার মধ্যে সহনশীলতা অন্যতম। সুতরাং ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সুখে-দু:খে, বিপদে-আপদে, সংঘাত-সংঘর্ষে, দ্বন্দ্ব-কলহে, ঝগড়া-ফাসাদে, বিবাদ-বিসংবাদে বিভিন্ন প্রকার বালা-মসিবতে সর্বাবস্থায় প্রতিটি ক্ষেত্রে চরম ধৈর্যধারণ ও পরম সহনশীলতা প্রদর্শনের চর্চা একান্ত প্রয়োজন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ