প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো

বিভুরঞ্জন সরকার : রাজনীতিতে একদিকে চলছে জোটবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে ভাঙনের শব্দও শোনা যাচ্ছে। বিএনপি চাইছে দল ভারী করতে কিন্তু বিএনপির ডাকে সেভাবে কেউ সাড়া না দেওয়ায় তারা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। তারা বড়ো দলের অহমিকা আপাতত স্থগিত রেখে ছোট দলের খবরদারিও মেনে নিচ্ছে, সহ্য করছে। মাহমুদুর রহমান মান্না, যিনি নিজে রাজনৈতিক অঙ্গনে যথেষ্ট পরিচিত হলেও তার দলের অন্য নেতাদের নাম কেউ শুনেছেন বলে মনে হয় না। তো, মান্না এখন জাতীয় ঐক্যের নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করছেন। বিএনপির সঙ্গে তিনি অন্যদের সেতু গড়ার কাজ করছেন। যেমন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে জামায়াত না থেকেও আছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটে থেকে। বিএনপি এখানে জামায়াতের সেতু হিসেবে কাজ করছে।

মাহমুদুর রহমান মান্না ‘বড়ো’ ঐক্য গড়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর একটি ‘মিশন’ বেশ কিছুদিন থেকেই অব্যাহত রেখেছেন। তবে তিনি খুব যুৎ করতে পারছেন না।

ড. কামাল হোসেন এবং ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মধ্যে একটি ঐক্য-আলোচনা শুরু করতে পেরে মান্না ও তার অনুসারীরা ভেবেছিলেন, এই দুই নেতা এক মঞ্চে উঠলেই আওয়ামী লীগ গদিহারা হবে। কিন্তু তাদের এই ঐক্য চেষ্টা যে ছিল বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরোর মতো সেটা বুঝতে সময় লাগেনি।

বিএনপির সঙ্গে কামাল হোসেন এবং মান্না সমর্থকরা এক হলে রাজনীতিতে নতুন কি শক্তি-উপাদান যোগ হয় তা বড়ো কোনো রাজনৈতিক গবেষক বা পণ্ডিতও বলতে পারবেন না।

বিএনপি এখন বেকায়দায় আছে। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিএনপির দ্বিতীয় প্রধান নেতা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া, আরো তিন মামলায় তিনি আগেই দণ্ডিত, দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াও কারাদণ্ডপ্রাপ্ত, আরো মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায়। এই অবস্থায় বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট প্রকট হওয়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।

জিয়া পরিবারের বাইরে কাউকে যে বিএনপির শীর্ষ পদ দিতে আপত্তি আছে সেটা নিয়ে বিতর্ক করা অর্থহীন। বিএনপি নেতৃত্বে আস্থা-বিশ্বাসের সংকট চরম। সে জন্যই খালেদা জিয়া জেলে গেলে অন্য কাউকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান না করে তারেক রহমানকেই করা হয়, যিনি এক যুগ ধরে দেশের বাইরে, বিএনপি ক্ষমতায় না এলে যার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

আগামী নির্বাচন তাই বিএনপির জন্য এক শক্ত পরীক্ষা ও চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনী প্রচারের জন্য বিএনপির প্রচারণামুখ বা ক্যাম্পেইনফেস দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির ভোট আছে। কিন্তু সেই ভোট ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত আনার সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সামর্থ্য বিএনপির নেই। কামাল হোসেন বা মান্না বা নতুন আরো কেউ যুক্ত হলেও বিএনপির এই সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে হয় না।

তাই ঐক্যের জন্য বিএনপি ছটফট করলেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। নতুন মিত্র জোটাতে গিয়ে পুরাতন মিত্ররা ঘর ছাড়ছে।

আওয়ামী লীগ বা সরকারও পক্ষ ভারী করার চেষ্টায় আছে। ক্ষমতার কেক-পেটিসের লোভ কার না আছে। সবাই খেতে চায়, পেতে চায়। এই চাওয়া ও খাওয়ার চাহিদা পূরণের সক্ষমতা যে বেশি দেখাতে পারবে, তারই তো জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সরকারকে চাপে ফেলে দাবি আদায় করার জন্য ফন্দিই বিরোধীরা করুক না কেন, তাদের বাঁধন আলগা করার ওষুধ সম্ভবত সরকারের কাছে আছে। দেখার বিষয় কে কতটা শক্ত গাঁথুনির বাধ বাধতে পারে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ