প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টকশো’র অত্যাচার নাকি ভয়ঙ্কর অস্বস্তি?

দীপক চৌধুরী : টকশো’র অত্যাচার বলা যায় এটিকে। গুণী-জ্ঞানী ও প্রিয় মানুষদের কথা শুনতে কিংবা পরামর্শ শোনার আগ্রহ নিয়ে যারা রাত জেগে টেলিভিশনের টকশো-আলোচনা অথবা সমালোচনা উপভোগ করতে চান তারা এখন নিয়মিত মানসিকভাবে আহত হচ্ছেন। এর উদাহরণ দেয়া যাবে অনেক। কয়েকদিনে তিনটি ঘটনা দর্শক-শ্রোতারা প্রত্যক্ষ করছেন। একশ্রেণির প্রবীণ ও সামাজিকভাবে পরিচিত মানুষের বিকৃত মুখভঙ্গী ও রুচির দুর্ভিক্ষ টিভির টকশোতে প্রত্যক্ষ করছি। মর্যাদাহানীকর কথা,  অসত্য তথ্য ও মিথ্যাচার তো আছেই।  নাকি ইচ্ছা করেই একশ্রেণির আলোচক টিভিকে  ‘মিথ্যাচারের বাক্স’ বানাতে চাইছেন? গুণী ও সম্মানিত মানুষও অতিথি হিসেবে দেখি, পাই। তাদের নিয়ে তো কথা উঠে না। তাই বলছি,  বিষয়টি ভাবনার, জরুরি।

ক্রমাগত বা ধারাবাহিকতায় মনে হচ্ছে, প্রতিরাতেই যেন দুঃসংবাদের প্রতিযোগিতা অপেক্ষা করছে। এটা কেন? সংশ্লিষ্টরা কেন সতর্ক হচ্ছেন না?  এখন যেন এক ধরণের অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হয় প্রায় দিনই। পরিচিত কিছু মুখের উপস্থিতি দেখছি ঘুরে ফিরেই। প্রশ্ন জাগা অস্বাভাবিক নয় যে, মিথ্যা, অসম্মানজনক ও অরুচিকর মানুষের কথা গেলানোই কি এর উদ্দেশ্য? সন্দেহ,  রুচির দুর্ভিক্ষ শেষ হবে কিনা কেউ জানে না।  মিথ্যা তথ্য যে কত ভয়ঙ্কর তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। অথচ তারা সক্রিয়,  এটাই সর্বনাশের বিষয়। অপ্রাসঙ্গিকভাবে বেসরকারি টেলিভিশন একাত্তরের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলা হয়েছে। এরপর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ১০১ জন নারী। তারা বলেছেন, এ বক্তব্য নারীর জন্য অবমাননাকর ও অপমানজনক।

গত ১৬ অক্টোবরের ওই অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন মাসুদা ভাট্টি ও সাখাওয়াৎ হোসেন। স্টুডিওর বাইরে থেকে যুক্ত হন মইনুল হোসেন। মাসুদা ভাট্টির এক প্রশ্নের জবাবে মইনুল বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই।’ আকস্মিক এমন আক্রমনাত্মক উক্তিতে বিস্মিত হওয়ারই কথা। এরপর নাকি ফোনে মইনুল হোসেন ক্ষমা চেয়েছেন বা চাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। টিভির ‘লাইভ’ অনুষ্ঠানে এমন উচ্চারণ বা উক্তি অবশ্যই অশুভ ইঙ্গিত বহন করে।

দ্বিতীয় আরেকটি ঘটনা ঘটেছে ৯ অক্টোবর, সময় টেলিভিশনের টকশোতে।  গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্যতম ট্রাস্টি  জাফরুল্লাহ  চৌধুরী  টকশো’ আলোচনায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এম এ আজিজ সম্পর্কে এমন সব কথা বলেছেন যা অপপ্রচার ও মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ। তার বক্তব্য সেনাবাহিনীর সদস্যদের বিভ্রান্ত করেছে এবং মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এতে সুশৃঙ্খলবাহিনীর সংহতি ও একতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা অনাকাক্সিক্ষত। এমন বক্তব্যের পর সংবাদ সম্মেলন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। কিন্তু সবকিছু কি ক্ষমা করা যায়? এ ধরনের সীমা লঙ্ঘনের জবাব কী?

কয়েকদিন আগে সময় টিভিতে টকশো’ চলছিলো। আলোচক ছিলেন বিএনপি নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও ডিবিসি সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম। আলোচনার এক পর্যায়ে জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী প্রসঙ্গ এলে  ড. রিপন  তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের ‘সর্বাধিনায়ক’ হিসেবে উপস্থাপন করেন।  কী সর্বনাশা কথা! মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতিকে কীভাবে সর্বাধিনায়ক বলা হলো অনুষ্ঠানে? জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ও নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ হলো। যুদ্ধ করে স্বাধীন দেশ পেলাম আমরা। তিনিই তো সর্বাধিনায়ক। ভুল ইতিহাস প্রচারের কৌশল থেকে বিএনপির কেউ বেরিয়ে আসতে পারেনি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসের অনেক সত্যকে উল্টানো হয়েছিল। মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিভ্রান্ত  করা হয় জাতিকে। এটি  শুরু করেছিলেন জিয়াউর রহমান।  বঙ্গবন্ধুই যে ‘সর্বাধিনায়ক’  একথা সারাবিশ্ব জানলেও এদেশের কিছু মানুষ এখনও এই সত্য ইচ্ছাকৃতভাবেই উচ্চারণ করতে চান না। শিশুরা ভুল করলে ক্ষমা করা যায়, কিন্তু সবাইকে কি ক্ষমা করা উচিৎ? গভীরে গেলে মনে হয় পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত চলছেই। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

লেখক : উপ-সম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি ও কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ