প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাজার ভর্তি মাছ তবু দাম চড়া

কালের কণ্ঠ : টেংরা মাছের কেজি কত? ৬৫০ টাকা, আপনার জন্য ৫০ টাকা কম। কতটুকু নেবেন স্যার? দাম শুনেই ক্রেতা হাঁটা শুরু করলেন। পেছন থেকে বিক্রেতা ডাকতে লাগলেন, একদাম ৫০০ টাকা, নিয়ে যান; কিন্তু তাতেও ক্রেতার মন গলল না। তিনি অন্যদিকে চলে গেলেন।

এটা ছিল কারওয়ান বাজারে কিচেন মার্কেটের একটি মাছের দোকানে এক ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যকার কথোপকথন। যে টেংরা মাছ অন্যান্য সময় সাধারণত মানভেদে ৩৫০-৪৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়, সেই মাছের দাম এখন মানভেদে ৪৫০-৫৫০ টাকা।

শরিফুল ইসলাম নামের মাঝবয়সী ওই ক্রেতার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘কয়েক দিন ধরেই মাছের দাম বেশ চড়া। তার ওপর আবার উল্টাপাল্টা দাম চাইছে। অনেক সময় মাথা ঠিক রাখতে পারি না। কারওয়ান বাজারে অন্য বাজারের তুলনায় দাম একটু কম থাকার কথা, সেখানেও বেশি চাইছে।’

ঢাকার বাজারে ১০-১২ দিন ধরেই চড়া দামে মাছ বিক্রি হচ্ছে। এটা অনেকটা হুজুগেও হচ্ছে। কারণ মাছের দাম বেশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। গত ৭ অক্টোবর থেকে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে প্রচুর পরিমাণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে। অন্য মাছের বিক্রি কম হয়েছিল। বিক্রেতারা বলছে, ইলিশ বিক্রি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অন্য মাছের দাম চড়ে গেছে। কিন্তু মাছের সরবরাহ মোটেও খারাপ না।

কারওয়ান বাজারেই শফিউল ইসলাম নামের আরেক ক্রেতা বলছেন, ‘ইলিশ এত সস্তা হয়েছিল বন্ধ হওয়ার আগে দিয়ে, সেটাই যেন সমস্যা হয়েছে। এখন ইলিশ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে অন্য মাছের দাম বেড়ে গেছে। অথচ দেখেন বাজারে মাছের কোনো সরবরাহ সংকট নেই। ছোট-বড় সব ধরনের মাছই পাওয়া যাচ্ছে।’

বিক্রেতারা বলছে, ইলিশের চাপে ওই সময় অন্য মাছের সরবরাহ কমে গিয়েছিল। বিল বা পুকুর থেকে মানুষ মাছও ধরত কম। সেই গ্যাপটা রয়ে গেছে। এখন ধীরে ধীরে আবারও সরবরাহ বাড়ছে। দামও একটু করে কমতে শুরু করেছে।

তবে গুদারাঘাট কাঁচাবাজারে একটি মাছের দোকানে দেখা গেছে, এক বিক্রেতা ৫৫০ টাকা প্রতি কেজি পাবদা মাছের দাম চাইলেও শেষ পর্যন্ত কমাতে কমাতে ৩৫০ টাকায় নেমে আসেন। শেষে অনেকটা বিরক্ত হয়েই ক্রেতা সেই মাছ আর কিনলেন না। শফিক মিয়া নামের ওই বিক্রেতার কাছে এতবার দাম পরিবর্তন করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই কী করমু। কাস্টমার ভালো জিনিস চিনতে ভুল করে। বিক্রি শেষ দিকে। তাই একেবারে কেনা দামে দিতে চাইলাম, তাও নিল না।’ আপনি তো একেবারেই কাছাকাছি একটা দাম চাইতে পারতেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লাভ তো করতে হবে।’

ঢাকার বেশ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের দাম খানিকটা কমেছে। গত সপ্তাহেও মাঝারি আকারের যে রুই মাছ ৩০০-৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেগুলো এখন প্রতি কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে ২৮০-৩০০ টাকায়। এর পরও এ দাম অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। কারণ এই মাছ সাধারণত ২৫০-২৬০ টাকা কেজি বিক্রি হতো। এর চেয়ে ছোট আকারের রুই মাছ প্রতি কেজি ১৮০-২৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। বেশির ভাগ বাজারেই প্রতি কেজি পাবদা মাছ ৫০০-৫৫০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি টেংরা মাছ মানভেদে ৪৮০-৬০০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ১৪০-২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অথচ তেলাপিয়া মাছ সাধারণত ১৩০-১৪০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি হয়। কই মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২২০ টাকায়, সরপুঁটি আকারভেদে ১৮০-২২০ টাকা কেজি, পাঙ্গাশ প্রতি কেজি ১৩০-১৬০ টাকা, ছোট মলা মাছ ৩৫০-৪৫০ টাকা কেজি, চাষের শিং ও মাগুর মাছ ৫০০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।