প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মাশরাফির বিকল্প তৈরি রাখা হচ্ছে’

সমকাল : শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমের পাশে দাঁড়িয়ে কোচ স্টিভ রোডস যখন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন সেন্টার উইকেটে একা একাই বোলিং করছিলেন মাশরাফি মুর্তজা এবং সেটা পূর্ণ রানআপেই। তার মানে এশিয়া কাপে পাওয়া চোট থেকে সেরে উঠেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক। তার পরও ঝুঁকি নিতে চান না রোডস। যদি মাশরাফি চোটে পড়েন তাহলে কী হবে! সে চিন্তা থেকেই তরুণ পেস অলরাউন্ডার সাইফুদ্দিনকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলের দুই স্তম্ভ সাকিব-তামিমের না থাকাকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কোচ। গণমাধ্যমের সঙ্গে কোচের আলোচনার উল্লেখযোগ্য অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো

প্রশ্ন :এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ফাইনাল খেললেও কিছু জায়গায় দুর্বলতা ছিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে বলে আপনি মনে করছেন?

স্টিভ রোডস :জিম্বাবুয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সব ম্যাচ হেরে এসেছে। কোনো দলই এভাবে হারতে পছন্দ করে না। তাই আমার ধারণা, জিম্বাবুয়ে অনেকটা আহত পশুর মতো হয়ে আছে। তারা কঠিন লড়াই করবে। শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে তারা। দক্ষিণ আফ্রিকায় লজ্জাজনক হারের ক্ষোভটা হয়তো আমাদের ওপর ঝাড়ার চেষ্টা করবে তারা। আমরা এ বিষয়ে সতর্ক আছি। নিজেদের সেরা খেলাটা খেলার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। আমাদের সবাই যেন নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে, সেটা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিপক্ষকে নিয়ে মোটেও দুশ্চিন্তা করা যাবে না।

প্রশ্ন :দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করেছেন?

স্টিভ রোডস :এশিয়া কাপের ফাইনালে দারুণ একটি ওপেনিং জুটি হয়েছিল। ১২০-এর মতো রান তুলে নিয়েছিল দুই ওপেনার। কিন্তু পরের ব্যাটসম্যানরা সেটা কাজে লাগাতে পারেনি। আমরা সব সময়ই একটা ভালো সূচনা চাই। কিন্তু এটা সর্বদা সম্ভব হয় না। মাঝে মধ্যে আমাদের বোলাররা চমৎকার পারফর্ম করছে। তাই অনেক কিছু নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। অবশ্য আমাদের হাতে অনেক বিকল্পও আছে।

প্রশ্ন :সাকিব-তামিমকে ছাড়া পরিকল্পনা কীভাবে সাজাচ্ছেন?

স্টিভ রোডস :সত্যিকার অর্থেই আমি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছি। এটা অন্যদের জন্য দারুণ একটি সুযোগ। যদি অন্যরা এ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারে তাহলে সেটা আমাদের স্কোয়াডের গভীরতা প্রমাণ করবে। যদি দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে তাহলে সবাই নিজেদের সেরা খেলাটা খেলার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করবে। এটা ভীষণ স্বাস্থ্যকর একটি প্রতিযোগিতা। আর আমরা দলের মধ্যে গভীরতা চাই।

প্রশ্ন :সাকিব না থাকায় স্পিন আক্রমণ কেমন হতে পারে?

স্টিভ রোডস :সাকিব অমিত প্রতিভাধর স্পিনার, ব্যাটসম্যান ও ফিল্ডার। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সে খেলাটা ভীষণ ভালো বোঝে। তার অভাব তো পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই অন্য দিকগুলোতে আমাদের মনোযোগ দেওয়া উচিত। মেহেদীকে (মিরাজ) বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। নাজমুল অপু ভালো স্পিনার। সীমিত ওভারের ফরম্যাটে সে এটা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে। আমরা সবাই জানি যে, ওয়ানডেতে সে ভালো করবে। যদি অপু খেলে তাহলে আমাদের একাদশে দু’জন ভালো মানের স্পিনার থাকবে। রিয়াদ (মাহমুদুল্লাহ) কিন্তু অন্য অনেকের চেয়ে ভালো স্পিনার। যদি ফজলে (রাব্বি) খেলে তাহলে সেও কয়েক ওভার বোলিং করতে পারবে।

প্রশ্ন :দলে সাইফুদ্দিনের ভূমিকাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

স্টিভ রোডস :সে একজন ভালো অলরাউন্ডার। সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার মতো সামর্থ্য তার আছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাও তার আছে। সে কিছু দিন বাইরে ছিল, আবার দলে ফিরেছে। আমরা আশা করছি, সে আরও পরিণত হবে। মাশরাফি দুর্দান্তভাবে তার কাজটা করে যাচ্ছে। সেটি অধিনায়কত্বের মাধ্যমে করছে, দুর্দান্ত বোলিংয়ের মাধ্যমে করছে। মাশরাফির পুরনো চোট আছে। আপনারা সবাই নিশ্চয় জানেন যে, ক’দিন আগে আবার চোটে পড়েছে মাশরাফি। তাই মাশরাফির বিকল্প কাউকে তৈরি রাখা নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। যদি মাশরাফি চোটে পড়ে, তার মতো খেলোয়াড় আমাদের দরকার। সাইফুদ্দিনকে সে কারণে তৈরি রাখা। আমি তার চিন্তাভাবনা পছন্দ করি। তাকে অনেক প্রত্যয়ী দেখাচ্ছে।

প্রশ্ন :জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সৌম্য সরকার ও মুমিনুল হককে দলে রাখা হয়নি। সৌম্য কিন্তু জাতীয় লীগে ভালো খেলছে…

স্টিভ রোডস :যখন কেউ দল থেকে বাদ পড়ে তখন সে একাকিত্ব বোধ, মানসিকভাবে ধাক্কা খায়, হতাশ হয়। ভাবে, আমি বোধ হয় অবহেলিত। তবে সৌম্য ও মুমিনুল এমনটা ভাববে, সেটা আমি আশা করি না। দলে ফেরার সামর্থ্য তাদের আছে। মোসাদ্দেকও বাদ পড়েছে। আমি প্রস্তুতি ম্যাচ দেখতে যাব (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বিসিবি একাদশের হয়ে আজ বিকেএসপিতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন সৌম্য ও মোসাদ্দেক)। সৌম্য যে জাতীয় লীগে দুটি ৭০ রানের ইনিংস ও ৫ উইকেট পেয়েছে, তা শুনে আমি খুব খুশি হয়েছি। তার সঙ্গে কথা হয়েছে।

প্রশ্ন :ব্যাটিংয়ে ৭ নম্বর পজিশন নিয়ে কী ভাবছেন?

স্টিভ রোডস :আমার মতে, একটি ভালো দলে ৭ নম্বর পজিশনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাত নম্বরে নির্ভরযোগ্য কেউ থাকলে ব্যাটসম্যানরা একের পর এক আউট হলেও মানসিকভাবে দৃঢ় থাকা যায়। সাত নম্বরে ভালো কেউ থাকলে রান তাড়া করার সময়ও বেশ কাজে লাগে। ইংল্যান্ড দলে তো নয়-দশ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটিং করতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ