প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাতা-পিতার জন্য দোয়া করার ফজিলত

আমিন মুনশি : মা-বাবা ছোট শব্দ, কিন্তু এ দুটি শব্দের সাথে কত যে আদর, স্নেহ, ভালবাসা রয়েছে তা পৃথিবীর কোন মাপযন্ত্র দিয়ে নির্ণয় করা যাবে না। মা-বাবা কত না কষ্ট করেছেন, না খেয়ে থেকেছেন, অনেক সময় ভাল পোষাকও পরিধান করতে পারেন নি, কত না সময় বসে থাকতেন সন্তানের অপেক্ষায়।

সেই মা বাবা যাদের চলে গিয়েছেন, তারাই বুঝেন মা বাবা কত বড় সম্পদ। যেদিন থেকে মা বাবা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন সেদিন থেকে মনে হয় কী যেন হারিয়ে গেল,তখন বুক কেঁপে উঠে, চোখ থেকে বৃষ্টির মত পানি ঝরে, কী শান্তনাই বা তাদেরকে দেয়া যায়!

সেই মা বাবা যাদের চলে গিয়েছে তারা কী মা-বাবার জন্য কিছুই করবে না?।

এত কষ্ট করে আমাদের কে যে মা-বাবা লালন পালন করেছেন তাদের জন্য আমাদের কী কিছুই করার নেই? অবশ্যই আছে। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মৃত মা-বাবার জন্য দোয়া ও তার ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করা হলো

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম। আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, ‘সময় মতো নামাজ আদায় করা।’ আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘অতঃপর মাতা পিতার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করা।’ (বুখারি)

মাতা পিতার সঙ্গে ভাল ব্যবহার সন্তানের জন্য সর্বোত্তম আমল। যদি পিতা-মাতা কেউ বেঁচে না থাকে তবে সন্তান-সন্তুতির জন্য করণীয় কী? তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তার কোনো নেককার বান্দার মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন। বান্দা তখন বলবে, হে আমার প্রভু! আমার জন্য এ সব (মর্যাদা) কোথা থেকে এলো এবং কি কারণে এলো?

তখন আল্লাহ তাআলা বলবে, ‘তোমার সন্তান তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার কারণে (তোমার মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে)। (মুসনাদে আহমদ)

উল্লেখিত হাদিসে কুদসিতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্তানের দোয়ার ফজিলত তুলে ধরেছেন। যাতে দুনিয়ার সব সন্তানই তার মৃত পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে।

মনে রাখতে হবে, কোনো ব্যক্তির পিতা-মাতা মুসলিম (মুমিন) অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে সন্তান-সন্তুতি তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে দোয়া শিখিয়েছেন। এমনকি তারা মৃত মুসলিম মা-বাবার জন্য হজ আদায় করতে পারেন; তাদের রূহের মাগফেরাতের জন্য এবং জান্নাতে মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য গরিব-দুঃখীর মাঝে দান-অনুদান দিতে পারেন।

মা-বাবা দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর সন্তান মা-বাবার জন্য বেশী বেশী দু‘আ করবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে দু‘আ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কী দু‘আ করবো তাও শিক্ষা দিয়েছেন । আল-কুরআনে এসেছে, ‘‘হে আমার রব, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন’’ (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ২৪)

‘‘হে আমাদের রব, রোজ কিয়ামতে আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করে দিন’’ (সুরা ইবরাহীমঃ৪১)

এছাড়া আল্লাহ-রাববুল আলামীন পিতা-মাতার জন্য দূ‘আ করার বিশেষ নিয়ম শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেন, ‘হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে আমার ঘরে ঈমানদার হয়ে প্রবেশ করবে তাকে এবং মুমিন নারী-পুরুষকে ক্ষমা করুন এবং ধ্বংস ছাড়া আপনি যালিমদের আর কিছুই বাড়িয়ে দেবেন না ’ (সূরা নুহ: ২৮)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ