প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে দেশ, নিরাপত্তায় কতটুকু ?

সৌরভ নূর : গত কয়েক দশকে শস্য দানা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সবজি এবং অন্যান্য মাঠ ফসলের উৎপাদন বেড়েছে অনেক গুণ। মাছ এবং মাংস উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের অগ্রগতি তাৎপর্যপূর্ণ।

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ক্ষুধার অবসান, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উন্নত পুষ্টি সম্পন্ন খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে বলে সরকার এবং বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন।

একই সাথে তাঁরা বলেছেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং সর্বস্তরের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে খাদ্যের প্রাপ্যতা থাকলেও এখনো বেশ কিছু মানুষ খাদ্য সঙ্কটে ভুগছেন। তাদের মতে দারিদ্র এবং আয় বৈষম্যের কারণে দেশের জনসংখ্যার একটি অংশ এখনো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতাই রয়েছে।

এ বিষয়ে মতামত জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি এবং খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্যের প্রাপ্যতা সম্পর্কে অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ যে কারণে খাদ্য সংকটে পড়েছিল সেই তুলনায় খাদ্য উৎপাদন এখন তিনগুণ বেড়েছে।

খাদ্য উৎপাদন বাড়লেও খাদ্য নিরাপত্তায় আমরা কতটুকু অগ্রসর হতে পেরেছি জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রচুর পরিমাণ উৎপাদন হচ্ছে কিন্তু কি পরিমাণ খাদ্য মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, সেটি মানুষের ক্রয় ক্ষমতার থাকছে কি না এটাও খাদ্য নিরাপত্তার একটি অন্যতম শর্ত। এছাড়াও আমরা যে খাবার গ্রহণ করছি তা কতটুকু নিরাপদ ও স্বাস্থসম্মত সেটাও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম মুখ্য বিষয়। এবং এ বিষয়টির সাথে জনস্বাস্থ্য এবং মানব সম্পদ উন্নয়নের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকায় এনিয়ে অনেক কিছু করার রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে ভেজাল এবং বিভিন্ন রাসায়নিক মেশানো খাদ্যপণ্য সম্পর্কে রাষ্ট্রযন্ত্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে এবং সেই সাথে আইনের সঠিক ও দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এটা করতে না পারলে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন অধরাই থেকে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যখন বাংলাদেশের খাদ্য শস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১১০ লাখ মেট্রিক টন তা ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৩ লাখ টনের উপর। তারপরেও, পুষ্টি এবং খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, এখনো খাদ্য সংকটে ভোগে এমন মানুষের সংখ্যা গ্রামে ১৪ এবং শহরে ১৩ শতকরা ভাগ। সূত্র: ভয়েস অফ আমেরিকা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ