প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কৃষির শ্রমশক্তি ও জিডিপিতে কৃষি’র অবদান কমছে

মতিনুজ্জামান মিটু : কৃষিতে নিয়োজিত শ্রমশক্তি ও জিডিপিতে কৃষি’র অবদান ক্রমান্বয়ে কমছে। কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইনের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নারী-পুরুষ সমতা এবং গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়নে জলবায়ু পরিবর্তন সহনীয় কৃষির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ তথ্য তুলে ধরেন। সেমিনারে বক্তারা কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন পাস করার দাবি জানিয়ে বলেন, খাসজমির যে নীতিমালা রয়েছে তা পরিবর্তন করে খাসজমি উদ্ধার ও বন্দোবস্ত আইন তৈরী করতে হবে।

সেমিনারে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এক উপস্থাপনায় এএলআরডি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি বলেন, সরকারি হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায় গত ৭ বছরে কৃষিখাতে নিয়োজিত শ্রমশক্তি কমেছে। বর্তমানে কৃষিতে নিয়োজিত জনশক্তি ৪০.৬ শতাংশ। তা সত্তে¡ও এখনোও সর্বোচ্চ শ্রমশক্তি কৃষিতেই নিযুক্ত রয়েছে। তবে কৃষিখাতে নিয়োজিত শ্রমশক্তির শতকরা ৯৫.৪ ভাগই এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক। জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ক্রমান্বয়ে কমছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী জিডিপিতে এখন কৃষিখাতের অবদান ১৪.১০ (বাংলাদেশ শ্রমশক্তি জরিপ: ২০১৬-১৭)। এই জরিপে গত ৭ বছরে কৃষি খাতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৮ ভাগ বেড়ে ৭২.৬ শতাংশে দাড়িয়েছে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, কৃষিকে একটি বেসরকারি খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যার কারণে জিডিপি-তে কৃষির অবদান ক্রমহ্রাসমান। তার অর্থ এই নয় যে, কৃষির উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। কৃষিজমি শিল্পায়ন, ইটের ভাটাসহ অন্যান্য অনুৎপাদনশীল খাতে দখল হয়ে যাচ্ছে। শিল্পোন্নয়ন দরকার আছে তবে তা কৃষিকে বাদ দিয়ে নয়। তাই কৃষি কেন্দ্রিক বা কৃষি পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প হতে হবে। অন্যদিকে কৃষিতে নারীর শ্রম বেড়েছে অনেকগুণ। কিন্তু তাদের নামে জমি না থাকায় কৃষিকার্ড এবং ব্যাংক ঋণ সহ অন্যান্য উপকরণ তারা পায় না। তারা আরো বলেন, খাসজমি সঠিকভাবে ভূমিহীনদের মাধে বন্দোবস্ত দিতে হবে। তার জন্য যে নীতিমালা রয়েছে তার পরিবর্তন দরকার। খুশী কবি-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি উপস্থাপনা দেন এএলআরডি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি। এতে আলোনায় অংশ নেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শারমিন্দ নীলোর্মি এবং এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তৃর্ণমুলের সংগঠিত নারীদের মধ্যে পটুয়াখালীর চর মিয়ানের আফরোজা বেগম, হাওরের জবা রাণী, রংপুরের মিরা নোয়াখালীর শাহেনা ও খতিজা, সাতক্ষিরার রেহানা, দিনাজপুরের সারা মারান্ডি এবং নিজেরা করি-ও কর্মী লাকী আক্তার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য: কাউকে পিছনে ফেলে নয়’ জাতিসংঘের এই শ্লোগান সামনে রেখে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষ্যে এএলআরডি ও নিজেরা করি এ সেমিনার আয়োজন করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ