প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চার ড্র ম্যাচে উজ্জ্বল নাফিস-তুষার-নাঈম-সৌম্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : একদিকে বৃষ্টি আরেকদিকে ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তা। দুইয়ে মিলিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডের চারটি ম্যাচের একটিতেও জয়-পরাজয়ের দেখা মেলেনি। বরিশাল ও কক্সবাজারে বৃষ্টি এবং খুলনা ও বগুড়াতে ব্যাটিং দৃঢ়তায় ম্যাচের ফলাফল হয়েছে নিষ্প্রাণ ড্র। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আলো ছড়িয়েছেন শাহরিয়ার নাফিস, সৌম্য সরকার, নাঈম হাসান, রাজিন সালেহ এবং তুষার ইমরান।

বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে টায়ার টু’র ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ঢাকা মেট্রো ও চট্টগ্রাম ডিভিশন। প্রতিকুল কোনো পরিবেশ না থাকলেও ম্যাচের ফলাফল বের হয়েছে ড্র’র মাধ্যমে। মেট্রো প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৮৭ রান তোলে। জবাবে চট্টগ্রাম ২৩৬ রানে গুটিয়ে যায়। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ২৫৪ রান তুলে চট্টগ্রামের সামনে ৩০৬ রানের লিড দিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে।

৩০৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৫৪ ওভার ব্যাটিং করে চট্টগ্রাম। ৩ উইকেটে ১৫৯ রান তুলতেই দিনের খেলা শেষ হয়। আর ম্যাচও ড্র দিয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোর হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন জাবিদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও সাদমান ইসলাম। চট্টগ্রামের হয়ে মাঠ নিজেদের করে রেখেছিলেন নাঈম হাসান, তাসামুল হক ও পিনাক ঘোষ।

অন্যদিকে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে টায়ার-ওয়ানের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল খুলনা ডিভিশন ও রংপুর ডিভিশন। ৩০০ পেরুনো তিনটি ইনিংসের পর ম্যাচ যে ড্র হবে তা সহজেই অনুমান করা গিয়েছিল। খুলনা বিভাগ প্রথম ইনিংসে ৩০৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ৩৩৪ রান করেছিল। জবাবে রংপুর নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৩১৫ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ রান করতেই খেলা শেষ করেন আম্পায়ার। ফলে এই ম্যাচটিও নিষ্প্রাণ ড্র হয়।

এই ম্যাচে খুলনা ও রংপুরের ম্যাচে মাঠে আলো ছড়াতে দেখা গেছে তুষার ইমরান, সৌম্য সরকার, সাজেদুল ইসলাম ও জাহিদ জাবেদকে। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১১ হাজারি ক্লাবে ঢুকেছেন তুষার ইমরান। আর সৌম্য সরকার তো বল হাতে ৫ শিকারের পর ব্যাট হাতেও অর্ধশত রান করেন।

লিগের অপর ম্যাচে কক্সবাজারে তিতলি’র প্রভাবে দুইদিন মাঠেই গড়ায়নি ম্যাচ। এই ম্যাচ ড্র হবে তা যে কেউই চোখ বুজিয়ে বলে দিতে পারতো। হয়েছেও তাই। দুই দিনের খেলায় প্রথম ইনিংসে ৩৫৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে সিলেট ডিভিশন। জবাবে ৫৫ রান তুলেই দিন পার করে ঢাকা বিভাগ।

এই ম্যাচে শতক বঞ্চিত হয়েছেন রাজিন সালেহ ও জাকির হোসেন। রাজিন সালেহ ৯৬ এবং জাকির ৮৮ রানের ফিরে যান। এই ম্যাচে ঢাকার তাইবুর ৪টি এবং শুভাগত ৩টি উইকেট নেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়ামের ম্যাচটিতে মাঠে নেমেছিল বরিশাল এবং রাজশাহী বিভাগ। এই ম্যাচেও বৃষ্টির কারণে প্রথম দুই দিন খেলা না গড়ানোর ফলে আজ ড্র দিয়ে শেষ হয়েছে ম্যাচটি। তবে ড্র হলেও দারুণ একটি শতক হাঁকিয়েছেন বরিশালের হয়ে খেলা ওপেনার শাহরিয়ার নাফিস। তার ১০২ রানের ইনিংসটিতে ভর করে ৭ উইকেটে ২২৯ রান নিয়ে খেলা শেষ করতে সক্ষম হয় বরিশাল। রাজশাহীর পক্ষে তাইজুল ও সাব্বির রহমান ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন।

চারটি ম্যাচে আলাদা আলাদাভাবে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন (ঢাকা মেট্রো-চট্টগ্রাম) ৯টি উইকেট শিকার করা নাঈম হাসান। (রংপুর-খুলনা) ১৪৭ রান ও ৫ উইকেট নেয়া সৌম্য সরকার। (বরিশালÑরাজশাহী) ৫৯ রান ও ২ উইকেট পাওয়া মুক্তার আলী। (সিলেট-ঢাকা) ৯৬ রান করা রাজিন সালেহ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ