Skip to main content

বাপ-বেটার বিকল্প ধারা

সাব্বির আহমেদ : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে ফ্রন্ট থেকে ছিটকে পড়া দল বিকল্প ধারার ভাঙন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বহিস্কার আর পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে জোট ভাঙার সুর বাড়ছেই। নানা কারণে কমছে কেন্দ্রীয় কমিটির সংখ্যা। বিভিন্ন অজুহাতে অনেকেই চলে যাওয়ার কথাও বলছেন। এদিকে শুক্রবার ( ১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন বিকল্পধারার ঘোষণাও আসছে। অন্যদিকে যুক্তফ্রন্টেও দলটির থাকা নিয়ে চলছে সংশয়। কারণ যুক্তফ্রন্টের সকল দলই ঐক্যফ্রন্টে সক্রিয়ভাবে যোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকল্প ধারার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই প্রতিবেদককে এসব নিশ্চিত করেছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি হবে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট। তবে বর্তমানে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি ১১১ সদস্যের। আর এতে হাতেগোনা কয়েকজন বাদে সকলেই দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয়। তবে এ বিষয়টি মানতে নারাজ দলের মহাসচিব আবদুল মান্নান। বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সবাই না হলেও বেশিরভাগ নেতা রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। নেতারা সক্রিয় হচ্ছেন।’ দলটির পক্ষ থেকে সারাদেশে ৩০টি জেলায় কমিটি আছে বলেও দাবি করা হয়। তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, দল গঠনের সময় ৩০ থেকে ৪০টি জেলায় কমিটি ছিল। বর্তমানে কোনও জেলায় দলের কার্যক্রম আদতে নেই। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি জেলার নেতারা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর ফলে বিকল্পধারায় ভাঙন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এমনটা নিশ্চিত করেছেন বিকল্প ধারার মধ্যম সারির এক নেতা। এরই মধ্যে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক জানে আলম হাওলাদারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিকল্পধারার সিনিয়র সহসভাপতি শাহ আলম বাদল বলেন, ‘বি চৌধুরী ও মাহী বি চৌধুরী মিলে যা করছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিকল্পধারা থেকে বেরিয়ে এসে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারাও আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। আমরা একমত আছি।’ দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তাদের পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিকল্প ধারা। তবে বিকল্পধারায় ভাঙন হচ্ছে না জানিয়ে মাহী বি চৌধুরী বলেন, ‘বিকল্পধারায় বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মাহী বি চৌধুরী ও মেজর মান্নান ছাড়া আর কারও নেতৃত্ব আছে নাকি? বিকল্পধারায় এই তিনজনই যথেষ্ট। দলে আর কী ভাঙন আসবে?’ বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব) আবদুল মান্নান বলেন, দলের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ৫ এর ৫: ২ গ ধারায় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা অনুযায়ী তাদের প্রাথসদস্যপদসহ দলের সব পদ স্থকরা হয়। তাদের দুইজনকে চূড়ান্তভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা ভেঙে নতুন করে গড়া এ দলটির সভাপতি হচ্ছেন দলটির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য নূরুল আমীন বেপারী। আহমেদ বাদল হবেন মহাসচিব। আর জানে আলম থাকবেন যুগ্ম মহাসচিব। বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নানকে দল থেকে বহিষ্কার করে ৭১ সদস্যের একটি কমিটি আত্মপ্রকাশ করবে শুক্রবার। এসবের মধ্য দিয়ে কার্যত বিকল্প ধারার বি চৌধুরী ও তাঁর ছেলে মাহি বি চৌধুরীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।

অন্যান্য সংবাদ