প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালমাল পরিবহণে আড়াই শ’ কোটি টাকার চার লেন সড়ক নির্মাণ হচ্ছে

শাহীন চৌধুরী: নির্মাণাধীন পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াটর কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালমাল পরিবহন ও যাতায়াতের সুবিধার্থে আড়াই শ’ কোটি টাকায় চার লেন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এজন্য পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সংযোগ সড়ক ও আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ- শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেক ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিএল)। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি ৬১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, এনডব্লিউপিজিসিএল এবং চীনের সরকারি সংস্থা চীনা ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যন্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে গঠিত বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) নামে একটি কোম্পানির মাধ্যমে পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। কিন্তু এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে সহজে যাতায়াত এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ভারী মালামাল পরিবহনের জন্য কোনো উন্নতমানের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রায় ২৭ কিলোমিটার উপজেলা রাস্তা পার হয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে যাতায়াত করতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে ভারী যানচলাচল প্রায় অসম্ভব। এ কারণে ঢাকা-কুয়াকাটা রোডের রজপাড়া নামক স্থান হতে টিয়াখালী ব্রিজ পর্যন্ত বিদ্যমান এলজিইডির আনুমানিক ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার রাস্তাকে সার্ভিস লেনসহ চার লেনে উন্নীত করার জন্য এই প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য এলজিইডিকে প্রয়োজনীয় স্টাডি সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হলে ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ জানয়, কাজের আধিক্যের কারণে এই প্রকল্প আপাতত এলজিইডির পক্ষে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। পরবর্তীকালে ফিজিবিলিটি স্টাডি, রিসেটেলমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান এবং ইআইএ সম্পন্ন করে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা এনডব্লিউপিজিসিএল প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব করে।

প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য অনুমোদন চেয়ে নথি উপস্থাপন করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী প্রকল্পটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেয়। এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ডিপোজিট ওয়ার্কসের পদ্ধতি দেখে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর রাস্তা নির্মাণের জায়গা রেখে ডিপিপি পুনর্গঠন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। সওজ ২০১৫ সালে রেট শিডিউল দেখে প্রস্তুতি প্রাক্কলন মোতাবেক পুনর্গঠিত ডিপিপিতে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২৩৪ কোটি ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়। ২০১৮ সালের রেট শিডিউল অনুসারে ডিপিপি পুনর্গঠন করে অনুমোদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়।

এই প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে, প্রকল্পের জন্য ৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণ, ঢাকা-কুয়াকাটা হাইওয়ে থেকে টিয়াখালী ব্রিজ পর্যন্ত ৩ দশমিক কিলোমিটার ৪ লেন সংযোগ সড়ক ও উভয় পাশে সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং ৯টি কালভার্ট নির্মাণ।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুল মওলা আমাদের অর্থনীতি ও আমাদেও সময় ডটকমকে বলেন, আগামী সপ্তায়ই প্রকল্প প্রস্তাবটি একনেকে উঠার কথা রয়েছে কিন্তু প্রধানমন্ত্রীতো ওমরাহ করতে দেশের বাইরে যাচ্ছেন তাই কবে উঠবে বলতে পারছি না। তিনি বলেন, যত তরাতারি প্রকল্পটির অনুমোদন পাওয়া যায় ততই মঙ্গল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ