প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মামলা জটিলতায় ডাম্পিং জোনে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার যানবাহন

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : থানা আর পুলিশের ডাম্পিং জোনে দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার যানবাহন। বিভিন্ন কারণে ট্রাফিক পুলিশের আটক করা এসব যানবাহন উন্মুক্ত স্থানে পড়ে থেকে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে যন্ত্রাংশ খোয়া যাচ্ছে। পুলিশ বলছে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আটক করা যানবাহন মালিকদের বুঝিয়ে দেয়া যায় না। অনেক সময় মালিকদেরও আগ্রহ কম থাকে।

ঢাকা মেট্রো ব-১১-৩২২৫ নম্বরের একটি বাস ২০০৯ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। সেই থেকে বাসটি আগারগাঁও ডাম্পিং স্টেশনে আছে। ৯ বছরে গাড়িটির অর্ধেকই বসে গেছে মাটির মধ্যে। বাকিটা কোনোভাবে মাথা তুলে থাকলেও ভেতরে জন্মেছে আগাছা। বাসটি আদৌ মালিক নেবেন কি না, তা নিয়ে সন্দিহান ডাম্পিংয়ে দয়িত্বপ্রাপ্তরা। ২০০২ সালে মতিঝিল থানা পুলিশ এক মামলার আলামত হিসেবে একটি ট্রাক আটক করে আগারগাঁও ডাম্পিং স্টেশনে পাঠায়। ১৬ বছরে ট্রাকটির বডির প্রায় তিন-চতুর্থাংশই নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু এ বাস আর ট্রাকই নয়, ডাম্পিংয়ে পাঠানো শত শত গাড়ি এভাবে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চুরি হচ্ছে এসব গাড়ির যন্ত্রাংশও। আগারগাঁও ছাড়াও রাজধানীর কাঁচপুর, শ্যামপুর ও শাহবাগে ডাম্পিং স্টেশন আছে। এছাড়া বিভিন্ন থানা কম্পাউন্ডে গাড়ি ডাম্পিং হয়ে থাকে। বিশেষ করে থানা কম্পাউন্ডে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, এমনকি বাসও ডাম্পিংয়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এভাবে কোটি কোটি টাকা ডাম্পিংয়ের নামে নষ্ট হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আটক করা যানবাহন নিতে পারেন না মালিকরা। এতে তারা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি, দেশেরও একটা বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ অবস্থায় গাড়ি আটক করার চেয়ে জরিমানা করার ওপর জোর দেয়ার পরামর্শ পরিবহন বিশেষজ্ঞদের।

ট্রাফিক পুলিশ বলছে- আদালত রায় না দেয়া পর্যন্ত আটক গাড়ি ফেরত দেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া মূলবান যন্ত্রপাতি চুরি হওয়ার কারণে মালিকরা গাড়ি ছাড়িয়ে নিতে আগ্রহ দেখায় না। আদালতের নির্দেশ না পেলে নিলামেও বিক্রি করা যায় না এসব গাড়ি। রাজধানীর প্রতিটি থানা ও এর আশপাশের এলাকা যেন এক একটি আটক করা গাড়ির ভাগাড়। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, অযত্ন অবহেলায় এসব গাড়ির এখন জরাজীর্ণ অবস্থা। যত দিন যায়, ততই কমতে থাকে এসব গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রপাতি। ফলে, একসময় পড়ে থাকে শুধুই কঙ্কাল।

রাজধানীর একাধিক ট্রাফিক সার্জেন্ট জানান, গাড়ি সড়কের ওপর রেখে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে ওই গাড়ি রেকার দিয়ে প্রথমে সরিয়ে রাখা হয়। এরপর রেকার বিল পরিশোধ করতে হয় গাড়ির মালিক বা চালককে। আর কাছাকাছি রেকার না থাকলে গাড়িতে হুইল লক (চাকা আটকে রাখার যন্ত্র) করা হয়। চালক এলে করা হয় রেকার বিল। আর বিল পরিশোধ না করলে পাঠিয়ে দেয়া হয় ডাম্পিংয়ে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত