Skip to main content

আহা, চেঁচায়ো নাহ্

সন্ধ্যার পূর্বেই হাট ভাঙেসারা হাট ঘুরে কমদামি সবজি আর কুঁচো মাছ কিনে বাড়ি ফেরে নিয়ম করে। বিদ্যুৎ নেই, হারিকেনের আলোয় বৌয়ের গজগজ শোনা অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে। ছেলেপুলে পড়ে অতি কষ্টে আশা যেন বড় হবে খুব, দেখিয়ে দেখিয়ে ছেলের পয়সায় কিনবে দামি সব বাজার-সদাই! দিন কেটে যায়... মহাজনের জমিতে হাল চাষ করে সারা বছরের খাবার ধান পেলেই খুশি। তখন মাটির ঘরেও স্বপ্নের ইট স্তুপাকারে আকাশ ছোঁয়। না; গত চার দশকে ভাগ্যের কোনো বদল হয়নি। তার বাপেরও ছিল একই চিন্তা... কী করে অভাব কাটাবে, ছেলে মানুষ হবে, মেয়ের হবে ভালো ঘরে বিয়ে! বোনের স্বামীটা তাকে ঘরছাড়া করেছে এখন ঢাকায় থাকে, শোনা যায় গার্মেন্টে কাজ করে। ছোট মেয়েটাকেও সে নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু পাঠানোর ইচ্ছে নেই। ও থাকুক ওর মতো... সবার ভাগ্য যে একরকম হবে তার কী মানে? ভাগ্য বদলের কথা শুধু শোনা যায় পাঁচ বছর পরে পরে। হাতে-পায়ে ধরে ভোট চেয়ে উন্নয়নের কথা শুনিয়ে যায়। তারপরে তো খোঁজ নেই, স্বাধীনতার ছেচল্লিশ বছর হতে চলল... “ভাত বাড়ছি, গেলা লাগবে না?” বৌয়ের ডাকে সম্বিত ফেরে! তখন স্বগোতক্তি বেরিয়ে আসে, “আহা, চেঁচায়ো নাহ্...”