প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাহবুব তালুকদার নয়, পদত্যাগের দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনের : রিজভী

শিমুল মাহমুদ: বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচন কমিশনে থাকা মাহবুব তালুকদারের পদত্যাগ দাবি না করে ১৪ দলের উচিৎ ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করা। তিনি বলেন, সরকার তার নীলনকশা বাস্তবায়ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনে নিজেদের লোক বসিয়েছে। একতরফা নির্বাচন নিশ্চিত করতে মাহবুব তালুকদারের ন্যায দাবিগুলো তাদের বাধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । তাই তার পদত্যাগ দাবি করছে ১৪দল।

বৃহস্পতিবার (১৮অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিদের নিশ্চিহ্ন করার রায় ২১শে আগস্টের রায়। এই নিশ্চিহ্ন প্রক্রিয়ার অন্যতম টার্গেট বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। তাই কোন রকম সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আক্রোশমূলক এই রায়ে তারেক রহমানকে প্রহসনের বিচারে সাজা দেয়া হয়েছে।  শেখ হাসিনা এই রায়ের মাধ্যমে মূল দু’টি লক্ষ্য পূরণ করতে চাচ্ছেন শেখ হাসিনার শাসনামলে চারিদিকে যে নৈরাশ্যের ছবি মানুষ অবলোকন করছে সেখান থেকে দৃষ্টি ফেরানো। তারেক রহমানের ওপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করে জিয়া পরিবারকে হেয় করা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা আওয়ামী লীগের কোন পক্ষ এই ঘটনার নাটেরগুরু।এই ঘটনা নিয়ে জনগণ ও সচেতন শ্রেণির মনে কিছু প্রশ্ন দানা বেঁধেছে।

সরকারকে কাছে প্রশ্নের রেখে রিজভী বলেন, কেন সমাবেশের পূর্বঘোষিত অবস্থান মুক্তাঙ্গনকে পরিবর্তন করে আওয়ামী পার্টি অফিসের সামনে নেয়া হয় ? তাও আবার আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কোন কিছু না জানিয়ে। কেন সাবের হোসেন চৌধুরী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হওয়ার পরও সেদিন মঞ্চে অবস্থান না করে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছিলেন ?কেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা আইভি রহমানকে বারবার অস্থায়ী মঞ্চ ট্রাকের উপর উঠার জন্য টানাটানি করেছিলেন ? একটি দলকে যদি ধ্বংস করারই পরিকল্পনা থাকে তাহলে কেন্দ্রীয় নেতাদের বাদ দিয়ে সেই পরিকল্পনা হয় কিভাবে ? যদি তাই না হয়, তাহলে একমাত্র আইভি রহমান ছাড়া বাকী সকল কেন্দ্রীয় নেতারা কিভাবে বেঁচে গেলেন ?

তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার আশেপাশেই বড় বড় সব নেতারা দাঁড়ানো ছিলেন। আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু যদি শেখ হাসিনাই হতেন তবে গ্রেনেডগুলি সেদিকে না ছুঁড়ে অন্যদিকে ছোঁড়া হলো কেন? শেখ হাসিনা’র বক্তব্যকালে হামলাকারীরা গ্রেনেড নিক্ষেপ না করে বক্তব্য শেষ করার পর কেন করলো ? বন্দুকধারীরা কি এতই বোকা যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যখন কোন প্রটেকশন ছাড়া ছিলেন, তখন গুলি করেনি, যখন তিনি বুলেটপ্রুফ গাড়ীতে চড়ে বসলেন তখনই গুলিবর্ষণ শুরু হয়ে গেল ?এফবিআই-এর তদন্তের খাতিরে যখন ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটি দেখতে চাওয়া হয়, তখন সে গাড়িটি কেন দেখতে দেয়া হয়নি ? মুফতি হান্নানকে কেন ৪১০ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল ? আর যখন মুফতি হান্নান জবানবন্দীতে বলেছিলেন-৬ই এপ্রিল সিলেটের একটি মামলায় তাকে সিলেটে পাঠানো হয়। পরদিন সিলেট থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে পৌঁছানোর পরপরই তাকে ঢাকা কোর্টে ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় কারাগারে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী মুফতি হান্নানের সাথে ছিল না। এরপর ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে সিআইডি তার হাতে একটি কাগজ দেয়, সেখানে তার কথিত জবানবন্দীতে উল্লেখিত নাম যেমন-তারেক জিয়া, হারিছ চৌধুরী, পিন্টু ও বাবরসহ অনেকের নাম রয়েছে। উক্ত রেকর্ড ও প্রস্তুতকৃত জবানবন্দীতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করলে জেলখানার ভেতরে হত্যা করাসহ রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের হুমকি দেয়া হয়।