প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুর্গাপূজা কীভাবে বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলো

জুয়েল খান : বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। কিন্তু ভারতের সকল হিন্দুদের কাছে দুর্গাপূজা বড় উৎসব নয়। এমনকী বাংলাদেশেও একসময় ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন দেবতার পূজা কারা হতো। তাহলে দূর্গাপুজা কীভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হয়ে উঠলো ?

এ বিষয়ে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত শ্রী বরুণ কুমার চক্রবর্তী বলেন, হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী রামচন্দ্র সীতাকে উদ্ধারের জন্য শরৎকালে দেবী দূর্গাকে মর্তে আহ্বান করেছিলেন। আর সে কারণেই হিন্দু সম্প্রদায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে বড় উৎসব হিসাবে পালন করে আসছে। তিনি বলেন আশ্বিন মাস শরৎকাল, এই সময় সব দেবতাগণ নিদ্রায় ছিলেন। অশুভ শক্তির প্রভাবে পৃথিবী ধ্বংসের দিকে চলে যাচ্ছিল।

তখন রামচন্দ্র স্বয়ং স্বর্গের ইন্দ্রদেবের কাছে গিয়ে বিধান চাইলেন। ইন্দ্রদেব বিধান দিলেন যে তোমরা স্বয়ং মহামায়ার আহ্বান করো। ত্রেতাযুগে সীতাকে উদ্ধার করে রামচন্দ্র অকালে বিধান করেছিলেন। রামচন্দ্র সারাবিশ্বে দূর্গাপুজার সূচনা করেছিলেন এবং প্রচার করেছিলেন। আর সেই থেকে আজ অবধী রামচন্দ্রের এই বিধাণ দুর্গাপূজাকে হিন্দু সম্প্রদায় সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হিসাবে পালন করে আসছে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বিশ্বজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, সংস্কৃক ভাষায় রচিত রামায়ণে দূর্গাপুজার কোনো উল্লেখ ছিল না। রামায়ণ যখন বাংলা ভালায় অনুদিত হলো মূলত: তখন থেকই বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে দেবী দুর্গার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। কৃতিবাসের রামায়ণ এত সরল ভাষায় অনুদিত হলে তখনকার সকল বাংলা ভাষাভাষীরা পড়তে পারলেন বুঝতে পারলেন।

তারা অনুধাবন করলেন যে, দেবী দুর্গা যদি রাবনকে বধ করতে পারে তাহলে আমাদের জাগতিক জীবনেও নানা উপকারে আসবে। আর এই ধারণা থেকেই বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে দুর্গাপূজার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এভাবেই বাঙালি হিন্দু সমাজের প্রধানতম দেবী হিসাবে দুর্গার আবির্ভাব হয়। তবে ব্যাপক আকারে জনপ্রিয়তা পেতে আরো কয়েকশ বছর সময় লাগে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃত বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজিন হুদা বলছেন, মূলত: ব্রিটিশ শাসনের সময় হিন্দু এলিট এবং জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দুর্গাপূজা। তিনি বলেন, মা দূর্গার মধ্যে মাতৃত্বের এবং মাতৃরূপের একটা ব্যাপার থাকার কারণেই ওই সময়ের সমাজে দেবী দুর্গার প্রচার এবং প্রসার ঘটতে থাকে। কারণ, তখনকার বাঙালি সমাজ মাতৃতান্ত্রিক ছিল। এছাড়া তখনকার জমিদাররা প্রজাকে খুশি করার জন্য দূর্গাপুজার প্রসার বাড়াতে থাকে। আর এভাবেই আমাদের বাঙালি সমাজে দুর্গাপূজা এতটা জনপ্রিয়তা পায়। সূত্র: বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ