প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়েছে নারী নির্যাতন

মো.সাদ্দাম হোসেন,ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের একটি শয্যায় মেঝেতে শুয়ে কয়েকদিন ধরে কাতরাচ্ছেন রহিমা আক্তার নামে একজন গৃহবধু(২৬)। যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করেছেন। স্বামী ও শ্বাশুড়ি-ননদ মিলে তাঁর হাত পা বেঁধে ও মুখে কাপড় গুঁজে নির্মমভাবে পেটান।

শুধু তা-ই নয় রহিমার স্বামী তাকে উপর্যপুরি লাথি ও চড় থাপ্পর মারেন। এতে অজ্ঞান হয়ে যান রহিমা। তার কানে রক্ত জমাট হয়।
এরপর পাষান্ড স্বামী তাকে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে রেহনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ঠাকুরগাঁওয়ের রোড এলাকায় এই গৃহবধূর ওপর এই অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনার পরের দিন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই গৃহবধূর বাবা।

রহিমার মত হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের রয়েছে আরও তিনজন গৃহবধু। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গৃহবধু জানান, স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিন দিন থেকে। তার চিকিৎসা তো দুরের কথা মামলা না করতে তার স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজন হাসপাতালে এসে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।

এ অবস্থায় ওই গৃহবধূ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অন্যদিকে এক স্কুল শিক্ষিকা জানিয়েছেন, তার স্বামী তাকে রেখেই আরেকটা বিয়ে করে অন্য জায়গায় বসবাস করছে। দুই সন্তান নিয়ে নিদারুণ জীবনযাপন করছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অধিদপ্তররের গত চার মাসের তথ্যমতে জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ধর্ষণেরর চেষ্টা,নারী নির্যাতন, অপহরণ, যৌতুক, যৌন হয়রানি ও যৌন নিপিড়নের শিকার হয়েছেন ৯৭জন নারী।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুচরিতা দেব বলেন, সমাজের সর্বস্তরের নারীরা কোনো না কোনভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সব চেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে তারা নিজ ঘরেও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নির্যাতনকারীরা ভূমিকায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষকেই দেখা যায়।

নারী নির্যাতন কেন বাড়ছে ? এমন প্রশ্নের উত্তরে ঠাকুগাঁও সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী শিক্ষক মাহমুদ হোসেন জানান, মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে নারী নির্যাতের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই নির্যাতনের হাত থেকে নারীদের রক্ষা করতে হলে শিক্ষা, শ্রদ্ধা সম্মান, সর্বোপরি মানুষিকতার পরিবর্তনের জায়গাগুলোতে কাজ করতে হবে। স্কুল কলেজের পাশাপাশি পরিবার থেকেও সন্তানদের নারীদের সম্মান করা শেখাতে হবে।

এ বিষয়ে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রোকসানা বানু হাবিব বলেন, এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের সবাইকে যারা যার অবস্থান থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নারীদের সাহসী করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। আইনের আশ্রয় নিতে হবে। গণমাধ্যমকে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি কাজ করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ