প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের আস্ফালন সভ্যতা থেকে আমরা কতদূর?

অজয় দাশগুপ্ত, সিডনি অস্ট্রেলিয়া থেকে: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের আস্ফালন চলছে অনেককাল ধরে। নতুন যে জোটটি গঠিত হয়েছে এবং জোট গঠনের আগেই যেখানে ভাঙনের পদধ্বনি, সেখানে শীতের পাখি এই মইনুল হোসেন। বরাবরই তাই। সুযোগ্য, নির্ভিক ও দেশদরদি সাংবাদিক মানিক মিয়ার কুযোগ্য পুত্র। পিতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষ। ইত্তেফাক ছিলো মুক্তিযুদ্ধের আশা জাগানিয়া খবরের কাগজ। কথিত আছে মানিক মিয়ার মৃত্যুর পর ঢাকায় লাশ দাফনে পাকিস্তানি সরকারের গড়িমসি ও জায়গা না দেওয়ার কারণে বঙ্গবন্ধু নাকি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন একদিন দেশ স্বাধীন হলে ঢাকার বড় রাস্তার নামকরণ করা হবে মানিক মিয়ার নামে। হয়েছেও তাই। অথচ মইনুল হোসেন ঘোর আওয়ামীবিরোধী। তাও এখন থেকে না, সেই চুয়াত্তর থেকে। একগাদা রাজাকার আর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সাংবাদিকে ভরা ইত্তেফাকে মুক্তিযুদ্ধের সময় গুঁড়িয়ে দেওয়ার ভয়াবহ স্মৃতি ভুলে হয়ে উঠেছিলো বঙ্গবন্ধুবিরোধী আস্তানা। মাছ ধরার জাল পরিহিত বাসন্তির ছবি ছেপে প্রমাণ করতে চেয়েছিল দেশে মানুষের কাপড় পর্যন্ত নেই। পরে তথ্য-প্রমাণসহ বাস্তবতা বলে দিয়েছে যে সময় দরিদ্র বাসন্তীকে ঠকিয়ে এমন ছবি ছাপানো হয় তখন কাপড়ের দাম ছিলো মাছ ধরার জালের চাইতে কম।

বরাবর কটুভাষী চেহারা সুরতে উগ্র মইনুল হোসেনও অনেক কা- করেছিলেন। তার নেতৃত্বে থাকাকালীন ইত্তেফাকের মালিকানা নিয়ে গোলাগুলি এবং মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও কোনো এক অশুভ শক্তির দাপটে তিনি বেঁচে যান। শুধু বাঁচা না একসময় পটপরিবর্তনের নামে তিনি ওয়ান ইলেভেন সরকারের সঙ্গেও যুক্ত হন। যথারীতি ছিটকেও পড়েন। কিন্তু বরাবরই তার ভাষা আর আচরণ অসংযত। কোথা থেকে এই সাহস পান বলা মুশকিল। তাদের আমলের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক না। মানুষ এখন সভ্য, ভদ্র মিডিয়া-নির্ভর প্রাণী। মানুষকে বোকা বানানোর যেমন দিন নেই তেমনি মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার দিনও বিগত। এখন আমাদের মিডিয়ায় নারী শক্তির প্রভাব আনন্দের। তারা আছেন বলে অনেক অকপট আর নির্জলা সত্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিনন্দন মাসুদা ভাট্টিকে। মাত্র এক প্রশ্নে এই লোকের মুখোশ খুলে দিতে পারার জন্য। আর ওই এক প্রশ্নবানে তিনি দুটো বিষয় জানিয়ে দিয়েছেন, এক. তিনি মূলত জামায়াতের লোক। দুই. আর যাই হোক না কেন, কোনভাবেই ভদ্র বা রুচি সম্পন্ন মানুষ তিনি নন।

সামাজিক মিডিয়ায় তার কথোপকথন দেখলাম। গোড়া থেকে তেতে থাকা বয়সী মইনুল হোসেনরা আপডেটেড মানুষ নন। তাদের ধারণা নেই দুনিয়া এখন কোথায়। সামান্য একটা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি একজন সাংবাদিক নারীকে ‘চরিত্রহীনা’ বলার ধৃষ্টতা দেখালেন। এর একটা জবাব সংবাদ মহলকে দিতেই হবে। আমার মনে হয়েছে, শারদীয় উৎসবের সময় এ যেন দেবীর সঙ্গে অসুরের লড়াই। আর এই অসুর নিজেকে যতই শক্তিশালী মনে করুক না কেন, পতন তার অনিবার্য। ভদ্রতা, সভ্যতা, শিষ্টতাহীন এমন মানুষ ভুলে যায় এ দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী। এদেশের বিরোধী দলের নেত্রী একজন নারী। স্পিকার একজন নারী। এমন কি কারাবন্দি বিগত প্রধানমন্ত্রী ও একজন নারীর সেখানে সেদেশে সে দেশের টিভিতে এমন কথা বলার জন্য শাস্তি হওয়াই উচিত। আপনারা যেভাবে দেখেন না কেন, এটাও নারী নির্যাতন। আর দশটা নারী নির্যাতনের মতো এর বিচার না হলে মইনুল হোসেনরা মনে করবেন তারা সব পারেন।

জি না, আপনারা সব করতে বা বলতে পারেন না। এবার যেন সে শিক্ষাই দেওয়া হয় তাকে। যাতে আমরা ভদ্রভাবে বাঁচার মতো একটা সমাজ পাই। এরা নাকি আবার দেশের নেতা। ছিঃ মইনুল হোসেন।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ