প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দাদু যাদু মিয়ার ধানের শীষ ছেড়ে নৌকার পথে গানি!

সারাবাংলা :  জিয়াউর রহমানের হাতে ‘সেনা ছাউনিতে’ জন্ম নেওয়া বিএনপিকে সাধারণ মানুষের দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং ‘গণতান্ত্রিক’ চেহারা দেওয়ার পেছনে যে ক’জন মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি, তাদের মধ্যে মশিউর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন অন্যতম। বলা হয়ে থাকে, ‘যাদু মিয়ার যাদুতেই বিএনপি হয়ে ওঠে আ. লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ এবং বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।’

সেই যাদু মিয়ার নাতি প্রগতিশীল তরুণ রাজনীতিক জেবেল রহমান গানি মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) ঘোষণা দিয়ে বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে গেছেন। ২০ দলে ভাঙন ধরিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে বিএনপি জোট ছাড়ার পেছনে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানির ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। প্রয়াত দাদা মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ধানের শীষ ছেড়ে নৌকায় উঠছেন তিনি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে নৌকার প্রার্থী হচ্ছেন জেবেল রহমান গানি।

জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই ডোমার-ডিমলা আসন থেকে জেবেল রহমান গানির দাদা মশিউর রহমান যাদু মিয়া ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী হন। সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন যাদু মিয়া।

কিন্তু নির্বাচনের ২৪ দিনের মাথায় ১৯৭৯ সালের ১২ মার্চ মারা যান মশিউর রহমান যাদু মিয়া। তার শূন্য আসনে উপনির্বাচনে তারই ছেলে শফিকুল গানি স্বপন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। সেটিই এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের সর্বশেষ বিজয়। এর পরের ইতিহাস কেবলই নৌকা-লাঙ্গলের।

এরপর ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেবেল রহমান গানির বাবা শফিকুল গানি স্বপন এবং ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জেবেল রহমান গানির ফুফু মনসুরা মহিউদ্দীন লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রাথী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে জেতার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মন্ত্রিসভার সদস্য হন শফিকুল গানি স্বপন।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে এই আসনে নৌকার প্রার্থী আব্দুর রউফ, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে লাঙ্গলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এন কে আলম চৌধুরী, ২০০১ সালের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হামিদা বানু, ২০০৮ সালের নির্বাচনে লাঙ্গলের প্রার্থী জাফর ইকবাল চৌধুরী এবং ২০০১৪ সালের ‘একতরফা’ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী মো. আফতাব উদ্দীন সরকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অর্থাৎ সর্বশেষ পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১ আসন থেকে নৌকার প্রার্থী জিতেছেন তিন বার, লাঙ্গল জিতেছে দুই বার। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক চারটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে চারটিতেই হেরেছে বিএনপির প্রার্থীরা।

সেই নৌকা-লাঙ্গলের ঘাঁটিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি। বিএনপি নির্বাচনে এলে তিনি হবেন মহাজোটের প্রার্থী। আর না এলে তিনি হবেন নৌকার প্রার্থী— আপাতত এমনটিই হিসাব।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেবেল রহমান গানি বলেন, ‘আপাতত এটুকুই বলা যায়, আগামী নির্বাচনে ‘গাভি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব— যেটা আমাদের দলীয় প্রতীক। তবে রাজনৈতিক মেরুকরণে অন্য কোনো প্রতীকে যদি নির্বাচন করতে হয়, সেখানে আমাদের আপত্তি থাকবে না। জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট থাকব।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হওয়ায় সরকারের একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে জেবেল রহমান গানির। সেই সুবাদে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ সব সময় ছিল।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, দাদা মশিউর রহমান যাদু মিয়া ও বাবা শফিকুল গানি স্বপনের নির্বাচনী আসন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা)-এ তাকে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হবে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটগত নির্বাচন হলে তিনি হবেন মহাজোট প্রার্থী।

সূত্রগুলো বলছে, সরকার প্রধানের তরফ থেকে এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই বিএনপি জোট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জেবেল রহমান গানি। পাশাপাশি বিএনপি জোটে বাংলাদেশ ন্যাপের অবমূল্যায়ন, জোটে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য না থাকা, নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও আসন ভাগাভাগির বিষয়টি পরিষ্কার না করা, জোট শরিকদের পাশ কাটিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন— প্রভৃতি কারণে জোট ছেড়েছেন জেবেল রহমান গানি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে জোট ছাড়ার কারণগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছি। এ নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। আর নিবন্ধিত একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের সব দলের সঙ্গেই আমাদের যোগাযোগ, ওঠা-বসা, কথা-বার্তা অব্যহত থাকে। আমরা চরমপন্থায় বিশ্বাস করি না। প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারায় আমরা বিশ্বাসী।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত