প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাকিয়ার কাছে কর্মটা তেতো, বেতনেই মধু!

কালের কন্ঠ : জাকিয়া সুলতানা। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সমবায় কর্মকর্তা। সরকারি এ কর্মকর্তার কর্মস্থলে না যাওয়াটাই যেন ‘নিয়ম’! তবে প্রতি মাসে বেতন নেওয়ার ব্যাপারে নিয়ম মানার অভ্যাস আছে এ কর্মকর্তার। সাত মাস ধরে কার্যালয়ে না এলেও প্রতি মাসে বেতন নিতে ঠিকই কর্মস্থলে ছোটেন তিনি। গতকাল বুধবার তথ্য সংগ্রহ করতে ওই কার্যালয়ে গিয়ে কাউকে না পেলেও বাইরে থেকে তালাবদ্ধ সমবায় কর্মকর্তার কক্ষে (দুপুর ১টা ২০ মিনিট) ট্যাব নিয়ে ফেসবুকে চোখ বুলাতে ঠিকই দেখা গেছে ওই কর্মকর্তাকে। ওই কর্মকর্তার দাবি, ‘আমি তো এখানে নেই, জেলা অফিসে সংযুক্ত আছি। বেতন তুলতে আজ এসেছি। আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’ পাশের অফিসের একজন জানান, প্রতি মাসে তিনি এসেই লোকচক্ষুুর আড়াল হতেই নিজেকে কক্ষে লুকিয়ে রাখেন। বেতন তুলে আবার চলে যান।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সমবায় কর্মকর্তা কর্মস্থলে না থাকায় একজন সহকারী পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করলেও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণ কোনো ধরনের সেবা পাচ্ছে না। প্রতিনিয়তই ভোগান্তিতে পড়ছে তারা।

উপজেলা প্রশাসন ভবনের নিচতলার পূর্ব সারিতে সমবায় কার্যালয়টি। তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বাইরে থেকে কার্যালয় তালা মারা দেখে এ প্রতিবেদক ফিরে যাচ্ছিলেন। কিন্তু অপর একটি কক্ষের দরজা খোলা দেখে (প্রতিবেদক) ভেতরে ঢুকে কাউকে পাননি। পরে ওই কক্ষের ভেতরের দরজার দিকে তাকিয়ে পাশের কক্ষে বৈদ্যুতিক পাখা চলতে দেখা যায়। সেখানে এক নারীকে সমবায় কর্মকর্তার চেয়ারে বসা দেখতে পাওয়া যায়। জানতে চাইলে ওই নারী নিজের নাম জাকিয়া সুলতানা ও নিজেকে সমবায় কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। কার্যালয়ের দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে বসে তিনি ট্যাবে ফেসবুকে সময় কাটাচ্ছিলেন। এ প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে একটি সমিতি সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গত এপ্রিলে নান্দাইলে সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছি। একটি ব্যক্তিগত কাজে আজ (বুধবার) আমি নান্দাইলে এসেছি। এই কার্যালয়ে আমার পোস্টিং থাকার কারণে প্রতি মাসে বেতন নেওয়ার জন্য একবার নান্দাইলে আসতে হয়। তাই আমার পক্ষে আপনাকে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।’ কার্যালয়ে কর্মরত অন্যদের অবস্থান সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা (জাকিয়া সুলতানা) কোনো তথ্য দিতে পারেননি। এতদিন জেলায় থাকায় এই এলাকার মানুষ তো সমবায় সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এখানে চলে আসার ব্যবস্থা করুন। এমন প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আমাকে ওইখানের যোগ্য মনে করেছে কর্তৃপক্ষ, তাই তো বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত আছি। এখন তাঁদেরকে বলেন আমাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করতে।’ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই কর্মকর্তা গতকাল বুধবার নিজের বেতন তুলতে সকালে নান্দাইলে আসেন।

এ ব্যাপারে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম বলেন, ‘সমবায় কর্মকর্তা সংযুক্ত আছেন এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’

এ ব্যাপারে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘কোনো সমবায় কর্মকর্তার এভাবে দিনের পর দিন প্রেষণে থাকার সুযোগ নেই। কাজ করবে এক জায়গায় আর বেতন তুলবে অন্য জায়গা থেকে তা হয় না। এ ব্যাপারে আজই আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ