প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেপরোয়া চট্টগ্রামের ৭৬ ক্লিনিক-ল্যাব

বাংলাদেশ প্রতিদিন : চট্টগ্রাম মহানগরের ৭৬টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য তিনদফা নোটিস দেয় পরিবেশ অধিদফতর। কিন্তু এরপরও হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেনি। ফলে দিনের পর দিন পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্য করে যাচ্ছে। ছাড়পত্র না নেওয়ার তালিকায় আছে নগরের প্রথম শ্রেণির ‘অভিজাত’ হাসপাতালগুলোও। পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম নগরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘পরিবেশের ছাড়পত্র গ্রহণের জন্য বেসরকারি ৭৬টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে তিন দফা নোটিস দেওয়া হয়েছে। তারপরও তারা ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেনি। ফলে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী অভিযান পরিচালনা করব। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে আবেদন করেছে তাদের আমরা সময় দেব।’ সরকারি নিয়ম মতে, একটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ পরিচালনায় স্বাস্থ্য ও পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু চট্টগ্রাম মহানগরের এসব বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার সরকারি অনুমোদন না নিয়েই পরিচালনা করছে। অনুমোদন না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান চলছে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরে ১২৯টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিবেশের ছাড়পত্র আছে। তবে বাস্তবে এর চেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান আছে বলে অভিযোগ আছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় প্রায় ৫০৪টি বেসরকারি হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ল্যাবের কোনো তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নেই বলে জানা যায়। অভিযোগ আছে, অনুমোদনহীন এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ গুলোতে রোগীদের কাছ থেকে আদায় করা হয় গলাকাটা ফি। নান্দনিক চাকচিক্যে ভরা অভিজাত ‘তারকা হোটেল’ আদলের তৈরি হাসপাতালগুলোতে চলে রোগী ঠকানোর অসম প্রতিযোগিতা। প্রত্যাশিত সেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হওয়ার ঘটনাও কম নয়। এসব কারণে বেসরকারি হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয়কেন্দ গুলোর উপর মানুষের আস্থা ক্রমশ কমছে। কিন্তু নানা কারণে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীরা বিমুখ হওয়ায় বাধ্য হয়েই অনেককেই বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দে যেতে হয় বলে জানা যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ