প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটার টানার চমক থাকবে আওয়ামী লীগে

বাংলাদেশ প্রতিদিন : সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ার নতুন চমক দিয়ে তৈরি হচ্ছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার। দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্রের আলোকে এই ভোটার টানার ইশতেহারে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টিকর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত, দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাবে আওয়ামী লীগ। বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু হয়েছে ইশতেহার প্রণয়নের। নির্বাচনের ১০ দিন আগে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইশতেহার ঘোষণা করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। জানা গেছে, ২০০৮ সালের ‘দিন বদলের সনদ’ ও ২০১৪ সালের ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’-এর মতো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতিকে নতুন একটি চমক দিতে চায় আওয়ামী লীগ। দেড় কোটি তরুণ ও নারী ভোটারকে টার্গেট করে যুগোপযোগী ভোটারবান্ধব একটি শিরোনামের ইশতেহার জাতিকে উপহার দিতে চান আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। এ জন্য আওয়ামী লীগের ইশতেহার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিগত জাতীয় সম্মেলন কমিটিতে দলের ঘোষণাপত্র প্রণয়নকারীর প্রধান ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাককে। অতিসম্প্রতি দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ইশতেহার প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়ে একটি গাইড লাইন দিয়েছেন। ইশতেহার প্রণয়ন কমিটিতে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করবেন ড. রাজ্জাক। প্রধানমন্ত্রীর কয়েকজন উপদেষ্টা, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী বিশিষ্ট নাগরিকরা এ কমিটিতে থাকবেন। তাদের মতামত নিয়ে প্রস্তুত করা হবে নির্বাচনী ইশতেহার। ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন ইশতেহার তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ড. আবদুর রাজ্জাক। বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা অফিসে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রথম বৈঠক করেছেন তিনি। ১৯ অক্টোবর দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তির মতামত নিচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত এ নেতা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণাপত্রের আলোকেই তৈরি করা হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে একটি গাইড লাইন দিয়েছেন। আমি দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে এক্সপার্ট (পারদর্শী) ব্যক্তিদের মতামত গ্রহণ করছি। টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, পুষ্টিকর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার নতুন চমক দিয়েই তৈরি করা হবে এবারের ইশতেহার।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। ১৯ অক্টোবর দ্বিতীয় বৈঠক করব। আরও কয়েক দফা বৈঠকের পর খসড়া শেষ হলে প্রধানমন্ত্রীকে দেখিয়ে ছাপাখানায় দেওয়া হবে।’ জানা গেছে, ভোটার টানতে নির্বাচনী ইশতেহার বড় ভূমিকা পালন করে। তাই সব রাজনৈতিক দলই ইশতেহারে চমক দেওয়ার চেষ্টা করে। আওয়ামী লীগ এবার নতুন চমক দেখাতে চায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ‘দিন বদলের সনদ’ স্লোগান-সংবলিত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে করা ইশতেহারটি জাতির মন জয় করে নিয়েছিল। ‘দিন বদলের সনদ’-এর আদলে তরুণদের মন জয়ে ইশতেহারে এবারও একটি আকর্ষণীয় স্লোগান অন্তর্ভুক্ত হবে। ইশতেহারে জাতিকে টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখাবে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে থাকবে ২০৪১ নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার অঙ্গীকার। অর্জন ও ব্যর্থতার পাশাপাশি শুধরে নেওয়ার লক্ষ্যে তুলে ধরা হবে ভুলগুলোও। জানা গেছে, দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য ১০ অগ্রাধিকারের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক ২১টি খাতে চলমান অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হবে ইশতেহারে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভবিষ্যৎ করণীয়ও স্পষ্ট করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবারের ফোকাস পয়েন্টে রাখা হবে। পিছিয়ে পড়া নারী এবং চরাঞ্চলের মানুষের জন্য ঘোষণা করা হবে নতুন অঙ্গীকার। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, দেড় কোটি নতুন ভোটারের জন্য নতুন সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সমাধানপথ থাকবে আগামী ইশতেহারে। ‘তারুণ্যই শক্তি’ স্লোগান ধারণ করে নতুন ভোটারদের বান্ধব হবে এবারের নির্বাচনী ইশতেহার। এ ছাড়া ইশতেহারে থাকবে কওমি মাদ্রায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, কৃষিবান্ধব শিল্প গড়ে তোলা, ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির চমক। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে এবার ইশতেহার তৈরির কাজ করছে দলটি। এতে থাকবে ৮১ বছরের অর্থাৎ ২০১৯ সাল থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনা। জাতিসংঘ সফর শেষে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ইশতেহার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনের জন্য তো ডেলটা প্ল্যান দিয়ে দিলাম। ৮১ বছরের প্ল্যান দিয়ে দিয়েছি। পরবর্তী শতাব্দীতে, মানে ২১০০ সালে কী রকম বাংলাদেশ হবে সেই পরিকল্পনাও দিয়ে দিয়েছি।’ আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের চমক ছিল ভিশন-২০২১।

২০১৪ সালের ইশতেহারে দেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেওয়া হয়। ইশতেহারের এ ঘোষণার আলোকে ইতিমধ্যে অনেক দূর এগিয়ে গেছে দেশ। আগামীতে দেশের চেহারা বদলে দিতে খাদ্যনিরাপত্তা, শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ আরও ব্যাপক উন্নয়নের বিশদ প্রস্তাবনা তারা নাগরিকদের কাছে তুলে ধরবেন। এ ছাড়া ইশতেহারে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে থাকবে। দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উেক্ষপণসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় থাকবে এবারের ইশতেহারে। দেশের প্রবৃদ্ধি যেন দুই অঙ্কে পৌঁছায় সে জন্য ইশতেহারে থাকবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ঘোষণা। দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার অন্যতম অঙ্গীকার থাকবে। দেশের প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার যেন রক্ষা হয় সে বিষয়টিও ইশতেহারে জোরালোভাবে থাকছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ইশতেহারে সরকার এবং রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য অর্জন, যেমন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, কৃষি ও শিক্ষায় উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে অগ্রগতি, কর্মসংস্থান, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু, ১০০টি অর্থনৈতিক জোন, নারী উন্নয়ন ও নারীনীতি বাস্তবায়নের বিষয়গুলোর উল্লেখ থাকবে। দুর্নীতি রোধে গৃহীত পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হবে। এ ছাড়া ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বিষয়গুলোর অগ্রগতি বিবেচনায় নিয়ে এবারের ইশতেহারে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন আনা হবে। গত দুবারের ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যে বিষয়গুলো সামনে এনেছিল তাতে সাধারণ ভোটাররা আকৃষ্ট হয়েছিল। টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ সরকার তা বাস্তবায়নও করে চলেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দেশের সম্ভাবনাময় অঞ্চলগুলো থেকে মানুষের চাহিদা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে সেসবের আলোকেই তৈরি হবে এবারের ইশতেহার। বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকম উন্নয়নের সুযোগ-সুবিধা আছে। সে সুযোগ-সুবিধা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। বিভাগগুলোর বিভিন্ন জেলায় যারা ব্যবসা ও শিল্পের নেতৃত্ব দেন তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। এ ছাড়া মানুষের চাহিদা এবং মতামতকেও প্রাধান্য দেওয়া হবে এবারের ইশতেহারে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ