প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে : আলী নূর

নিজস্ব প্রতিবেদক : ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির ৯৫ নং আদেশ বলে বাংলাদেশের বীমা শিল্প জাতীয়করণ করা হয় । দেশ স্বাধীনের পর জীবন বীমার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ। আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এটি। এরপর বীমা ব্যবসায় নিয়োজিত ৩৭টি কম্পানির সম্পদ ও দায়-দেনা নিয়ে প্রথমে সুরমা ও রূপসা নামে দুটি করপোরেশন এবং পরবর্তীতে ওই করপোরেশন দুটির সমন্বয়ে ১৯৭৩ সালে ৬নং আইন বলে জীবন বীমা করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হয় । সেই থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় এই জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সঞ্চয় ও ব্যবসায় প্রয়োজনে মূলধনের নিশ্চিত জোগান দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান।
উৎকৃষ্ট সঞ্চয়ের নিশ্চয়তা দুর্ঘটনায় পতিত হলে তাৎক্ষণিক অর্থ প্রদান, পরিবারেরর অর্থিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি, অবসর জীবনে আমৃত্যু পেনশনের ব্যবস্থাসহ জীবনের প্রতিটি প্রয়োজনে ন্যূনতম ব্যয়ে জীবন বীমা করপোরেশন বীমার ব্যবস্থা করেছে। মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাম্মাসিক, বার্ষিক যে কোনো পদ্ধতিতে বীমা করার জন্য জীবন বীমা করপোরেশনের পলিসি সম্ভারে রয়েছে ৩১টি বীমা স্কিম।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ আলী নূর গত ৭ মে জীবন বীমার করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগ দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সব বিষয় সর্ম্পকে ধারণা নিতেই গত কয়েক মাস কেটে গেছে তাঁর । এই স্বল্প সময়ে তিনি জেনেছেন জীবন বীমা করপোরেশনের সেবাদান পদ্ধতি সম্পর্কে। জেনেছেন ব্যবসা সম্প্রসারণের কৌশল ও জনবলের দক্ষতা সম্পর্কে। জীবন বীমার চলমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আলী নূর বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত করপোরেশনের এসটিডি/এসএনডি ব্যাংক হিসাবে মাসিক ব্যালেন্স নির্দিষ্ট সময়ে বিইএফটিএন-এর আওতায় প্রধান কার্যালয়ে স্থানান্তরের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড, ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এটি হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে টাকা স্থানান্তরের বাংলাদেশ ব্যাংকের আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতি। এছাড়া অনলাইন ইন্স্যুরেন্স সিস্টেম সফ্টওয়্যার আধুনিকায়নের নিমিত্তে ‘সিনেসেস আইটি ’ কাজ করে যাচ্ছে। আগামী বছরের মার্চেও মধ্যে উক্ত আপগ্রেডেশনের কাজ সম্পন্ন করণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের চলমান কর্মসূচিগুলো নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে। আলী নূর বলেন, কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে প্রণোদনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আওতায় ২৮ জন কর্মকর্তা ভারতে জীবন বীমা বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এই অতিরিক্ত সচিব সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছেন, এর আগে মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এবং মাঠ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রণোদনাকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। এ দেশটা আমার এর অগ্রগতি, উন্নয়ন, সফলতা অর্জন করতে হবে আমাদেরই। জীবন বীমা একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। ভবিষ্যতে একে একে এ প্রতিষ্ঠানের দেশের সব অঞ্চলের কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণে র আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জীবন বীমা করপোরেশনে আটটি আঞ্চলিক অফিস, ১২ টি করপোরেট অফিস, ৭৬ টি সেলস অফিস এবং ৫৩৪টি শাখা অফিস থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সেবাদান পদ্ধতিতে এখনো তেমন একটা প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগনি। তবে এই যুগে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান যে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন করতে পারবে না তা তিনি ঠিকই অনুভব করেছেন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির এমডি মো. আলী নূরের কাছে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা, কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিনেসিস আইটি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জীবন বীমার কার্যক্রম আটোমেশনে আওতায় নিয়ে আসার । তার পুরোদমে কাজও করছে। আশা করছি আগামি বছরের মার্চের মধ্যে তারা এই কাজটি সম্পন্ন করতে পারবে। তখন বীমা সক্রান্ত সেবা প্রদান আরো সহজ হবে এবং গ্রাহকদের দোরগোড়ায় সেবা পোঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন জীবন বীমার এমডি।
সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলার আঞ্চলিক অফিস পরিদর্শনে অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আলী নূর বলেন, এখনো বীমা কর্মকর্তাদের কার্যক্রমে কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। যে কারণে গ্রাহকরা বীমা সম্পর্কে পূর্ণ আস্থা পাচ্ছেন না। তবে এই আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বীমা সম্পর্কে গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে বিজ্ঞাপন দিয়ে জনগণের মধ্যে বীমার প্রযোজনীয়তা ও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি আমরা জীবন বীমা করপোরেশনের নবনিযুক্ত জুনিয়র অফিসারদের মধ্যে ৭৬ জনকে বীমা পলিসি এবং সেবা প্রদান বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। তিনি বলেন, আমরা কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁেজ পেতে চাই। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জীনন বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘ সুখে দুঃখে আপন জন, জীবন বীমা করপোরেশন’ এ স্লোগান অন্তরে ধারণ করে মানুষের সেবা দিতে চাই। আলী নূর বলেন, দেশের জন্য কাজ করতে আমাদের সবাইকে। সরকার ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার জন্য যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এর সফল বাস্তবায়ন করার মাধ্যমেই তা অর্জন করা সম্ভব হবে। #

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত