প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জয় ধরে রাখতে চায় আ. লীগ, বিএনপির আশাও জয়

কালের কন্ঠ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মাদারীপুর জেলার রাজনীতিও চাঙ্গা হয়ে উঠছে। নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা জল্পনা-কল্পনা ডালপালা ছড়াচ্ছে। বিএনপি নেতাকর্মীসহ বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে প্রধান আলোচনার বিষয়, আগামী নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন কতটুকু দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারবে? সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে তো? বিএনপি নির্বাচনে আসবে তো?

মাদারীপুর জেলায় নির্বাচনী আসন তিনটি। এই তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও একটিতে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে তিনটি আসনেই বিএনপির একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা এরই মধ্যে নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীরা সরাসরি নির্বাচনী মাঠে না নামলেও ভেতরে ভেতরে কাজ করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এই জেলায় আওয়ামী লীগের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। অন্যদিকে বিএনপির অবস্থান দুর্বল।

আওয়ামী লীগ চাইছে জেলার তিনটি আসনে আবারও বিজয় নিশ্চিত করতে। আর বিএনপি চাইছে নতুন করে বিজয় অর্জন করতে।

মাদারীপুর-১ আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এই আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী নুর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী)। আসনটিতে আওয়ামী লীগে দলীয় কোন্দল নেই। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে আসনটি পরিচিত। বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী এই আসন থেকে টানা পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছেন।

নুর-ই-আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী। পদ্মা সেতুর এ পারে শিবচর উপজেলার অবস্থান হওয়ায় বর্তমানে এখানে চলছে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। দীর্ঘদিন ধরে নুর-ই-আলম চৌধুরী এই এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়। আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে তিনি আবারও বিপুল ভোটে জয়ী হবেন, এমনটাই মনে করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম নাসিরুল হক বলেন, ‘শিবচর উপজেলায় আমাদের এমপি নুর-ই-আলম চৌধুরী বারবারই একক প্রার্থী। এই আসনে তাঁর বিকল্প অন্য কেউ নেই।’

অন্যদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপ্রত্যাশী। শিবচরে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে শিবচর উপজেলা বিএনপির নেতা জামান কামাল নুরুদ্দিন মোল্লা, শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি আব্দুল হান্নান মিয়া, বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে তাঁদের কাউকে নির্বাচনী মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

প্রধান দুটি দলের বাইরে এ আসনে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের তেমন কার্যক্রম নেই। তার পরও প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি থেকে কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পার্টির সদস্য ও মাদারীপুর জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম মিন্টু এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতা হাফেজ মোহাম্মদ জাফরের নাম শোনা যাচ্ছে।

মাদারীপুর-২ আসনে স্বাধীনতার পর ছয়বার আওয়ামী লীগ, দুইবার বিএনপি, একবার জাতীয় পার্টি ও একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হন। আসনটি রাজৈর উপজেলা ও মাদারীপুর সদরের ১১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার সমন্বয়ে গঠিত।

এই আসন থেকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান পাঁচবার আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী এবং একবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। পর পর দুইবার মন্ত্রী হওয়ায় তিনি নিয়মিত মাদারীপুরে আসেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে রয়েছে তাঁর সুসম্পর্ক। মাদারীপুরের উন্নয়নের জন্য তিনি ব্যাপক কাজ করছেন। তাই এই আসনে শাজাহান খানই আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী।

অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন ইডেন কলেজের সাবেক ভিপি, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহান্দার আলী জাহান, বিএনপি নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান কাওছার হাওলাদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য।

জাহান্দার আলী জাহান বলেন, ‘দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।’

মিল্টন বৈদ্য বলেন, ‘এলাকার মানুষ রাজনৈতিক নেতার পরিবর্তন চায়। তাই আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, আশা করছি বিপুল ভোটে জয়ী হব।’

এদিকে জাতীয় পার্টি থেকে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী এ আসন থেকে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।

মাদারীপুর-৩ আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে কোন্দল রয়েছে। ফলে এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীও একাধিক। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, বর্তমান এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিমের নাম শোনা যাচ্ছে।

তবে এই আসনে তৃণমূল নেতাকর্মীরা একাদশ সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ আবুল হোসেনকেই দেখতে চায়। সৈয়দ আবুল হোসেন চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হন। তিনি দীর্ঘদিন এই আসনে একক নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে সৈয়দ আবুল হোসেন কালকিনিসহ মাদারীপুরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক স্কুল-কলেজ স্থাপন করে ব্যাপকভাবে সুনাম অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি সাধারণ মানুষের বিপদ আপদে নানা ধরনের সহযোগিতা করে ভোটারদের মনে স্থান করে নিয়েছেন।

বর্তমান সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মাদারীপুর সদরের সন্তান হলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁকে এই আসন থেকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবারও তিনি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক বলেন, ‘কালকিনি উপজেলার সাধারণ মানুষের একটাই দাবি, এবার সৈয়দ আবুল হোসেনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হোক।’

অন্যদিকে এই আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, বিএনপির কেন্দ্রীয় গণশিক্ষাবিষয়ক সহসম্পাদক আনিচুর রহমান তালুকদার খোকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আসাদুজ্জামান পলাশের নাম শোনা যাচ্ছে।

কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন মুন্সী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন যাঁকে মনোনয়ন দেবেন আমরা তাঁকে নিয়েই নির্বাচন করব এবং জয়ী হব বলে আশা রাখি।’

এদিকে এই আসনে প্রার্থী হিসেবে জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও কালকিনি উপজেলা কমিটির সভাপতি এম এ খালেক এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অধ্যাপক বেলায়েত হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ