প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উল্টো পথে চামড়া খাতের রপ্তানি আয়

ফয়সাল মেহেদী : চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সার্বিক রপ্তানি আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে চামড়া খাতের রপ্তানি আয়ে। দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানি আয়ের খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বা জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় কমেছে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ। এদিকে আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয় ১২.০৩ শতাংশ কম।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার পাশাপাশি চামড়া থেকে তৈরি জুতা, ব্যাগ, জ্যাকেট, হাতমোজা, ওয়ালেট, বেল্ট, মানিব্যাগসহ চামড়ার তৈরি হস্তশিল্প পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়। চলতি অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২৬ কোটি ৮৯ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয় ২৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ আয় ০.৩৬ শতাংশ কম। এ খাত থেকে গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আয় হয়েছিল ৩২ কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আয় হয়েছে ১৭.৪৬ শতাংশ কম।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাদ্যক্ষ ও সমতা লেদারের নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, ২০১৭ সালের এপ্রিলে হাজারিবাগ থেকে ট্যানারি কারখানাগুলো সাভারে স্থানান্তর করা হয়। এতে অনকে কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাহত হয় উৎপাদন কার্যক্রম। বর্তমানে ১১০টি কারখানা চালু আছে। তবে কেমিক্যাল সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। অন্যদিকে মন্দা চলছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। এ অবস্থায় এ খাতে বিনিয়োগ কমেছে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা ১০০ ভাগ কমপ্লায়েন্স যাচাই করে। তবে সাভারে এখনও পরিবেশবান্ধব শিল্প নগরী গড়ে উঠেনি, কার্যকর হয়নি সিটিপি প্লান। তাই বাংলাদেশ থেকে তারা পণ্য কিনছে না। এর প্রভাব পড়ছে রপ্তানি আয়ে। তবে ৩-৪ মাসের মধ্যে চামড়া খাত ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি বলেন, সিটিপি প্লান বাস্তবায়নে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ আছে। এটা হয়ে গেলে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এ খাতের সংকট কেটে যাবে।

ইপিবির তথ্যমতে, প্রক্রিয়াজাত চামড়া, চামড়ার তৈরি বিভিন্ন পণ্য এবং জুতা- এই তিন পণ্যের মধ্যে চামড়ার তৈরি পণ্য থেকে গত বছরের তিন মাসে ১১ কোটি ১১ লাখ ডলারে পণ্য রপ্তানি হলেও চলতি বছর একই সময় হয়েছে মাত্র ৫ কোটি ১২ লাখ ডলার। সেই হিসাবে রপ্তানি আয় কমেছে ৫৪ শতাংশ।

এদিকে জুলাই-সেপ্টেম্বরে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানি হয় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ে হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় হয়েছে ১১ শতাংশ কম।

অন্যদিকে প্রথম তিন মাসে চামড়ার তৈরি জুতার রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.৬৫ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বরে জুতা রপ্তানি হয়েছে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১৬ কোটি ৬১ লাখ ডলার।

গত ২০১৭-১৮ অর্থবছর এ খাত থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৩৮ কোটি ডলার। শেষ পর্যন্ত। এর বিপরীতে আয় হয় ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় হয় ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় আয় হয় ১২.০৩ শতাংশ কম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ