প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শুল্ক গোয়েন্দার স্বর্ণ জমা নিচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক

আদম মালেক : বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত স্বর্ণ নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর অনিয়মের অভিযোগে তোলায় বিব্রত কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য নতুন নীতিমালা না হওয়ায় বিগত ৩ মাস ধরে শুল্ক গোয়েন্দ অধিদপ্তরের ৮৩ কেজি স্বর্ণ জমা নিচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে স্বর্ণ কেলেঙ্কারীর অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। সাধারণ মানুষের মাঝে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরী হয়। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া অবৈধ স্বর্ণ জমা নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা প্রনয়ণ করতে যাচ্ছে। এই নীতিমালা অনুযায়ী স্বর্ণ জমাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্বর্ণের নিরাপত্তায় সিলগালা করতে পারবে। কস্টেপ দিয়ে আটকে দেয়া বা দস্তখত দিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো রাখতে পারবে। এ ব্যাপারে ব্যাংক কোনো দায় দায়িত্ব নেবে না। এর ভিতরে কি আছে তাও ব্যাংক দেখতেও চাইবে না। বাংলাদেশে ব্যাংক তাদের কাছ থেকে সিলগালাকৃত একটি প্যাকেট বুঝে পেয়েছে বলে জানিয়ে দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, স্বর্ণের নিরাপত্তায় যত ধরনের সিকিউরড আপনি করতে পারেন, সিলগালা করেন, কস্টেপ দিয়ে আটকে দেন বা সিগনেচার করে রাখেন, যেভাবে খুশি রাখেন। এ ব্যাপারে দায় দায়িত্ব আমার না। এর ভিতরে কি আছে আমি দেখতেও চাই না। আমি বলবো, সিলগালাকৃত একটি প্যাকেট আমি নিলাম।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট কাস্টম হাউসের গুদাম কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত একটি সোনার চাকতি এবং একটি কালো প্রলেপযুক্ত সোনার রিং বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ওই চাকতি এবং আংটি যথাযথ ব্যক্তি দিয়ে পরীক্ষা করে ৮০ শতাংশ (১৯ দশমিক ২ ক্যারেট) বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দেয়। কিন্তু দুই বছর পর পরিদর্শন দল ওই চাকতি ও আংটি পরীক্ষা করে তাতে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১১ দশমিক ২ ক্যারেট) সোনা পায়। আংটিতে পায় ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ সোনা (৩ দশমিক ৬৩ ক্যারেট)। ধারণা করা হচ্ছে ভল্টে রাখার পর এগুলো পাল্টে ফেলা হয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, ভল্টে থাকা সোনার চাকতি এবং আংটি পরীক্ষার পর দেখা গেল এগুলো সোনার নয়, অন্য ধাতুর মিশ্রণে তৈরি। এতে সরকারের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

সম্পাদনা- আবু বকর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ