প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৪ মাসেও সন্ধান মিলেনি সাগরে নিখোঁজ ১৩জেলের

আমজাদ হোসেন আমু, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) : প্রায় চার মাসেও সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ হওয়া লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে ১৩ জেলের।
চলতি বছরের ২৮মে (সোমবার) সাগরে ইলিশ শিকার করতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়া ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ হন।

বুধবার (১৭অক্টোবর) বিকেলে স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে, আবু মাঝি (৫৬), তার ছেলে জাহেদুল ইসলাম (২২) ও মেয়ের জামাই মো. শরীফ (২৬) নিখোঁজ হন।অন্য জেলেরা হলেন মো. কাঞ্চন(৫০),তার ছেলে আবুল বাশার(২৫), নুরুল ইসলাম(৫০),কাঞ্চন হোসেন(৬০), মো. সেলিম(৪০), মো. কামাল (৩৫), মাইন উদ্দিন ( ৪০), সালাহ উদ্দিন(৪০), স্বপন(২২), হৃদয়(২৫)।

নিখোঁজ জেলে আবু মাঝির স্ত্রী বলেন, “সাগরে যাওয়ার আগে বাড়িতে ফোন করে দোয়া চেয়েছে। বলেছে, নামাজ পড়ে দোয়া করতাম। তুফানের মধ্যে পড়ে ট্রলার ডুবে যাওয়ার পর কারো খোঁজ পাইনি। শুনেছি, প্রথমে আমার স্বামী সাগরে পড়ে গেলে ছেলেও বাপের জন্য লাফ দিয়ে সাগরে পড়ে যায় পরে গোটা সাবার ডুবে যায়।কোনখান থেকে এখনও পর্যন্ত কোন ক্ষতিপূরণ পাইনি। ছোট ছেলেটার পড়ালেখা বন্ধ করে তাকে কাজে দিছি। এভাবেই এখন চলি। বিকল্প কোন রাস্তা নাই। মাইয়ার জামাইটাও নিখোঁজ হওয়ার কারণে তাঁর সংসারেও অভাবে যাইতাছে।আমাদের মতো সবার একই অবস্থা।ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া নাই। কখন তারা ফিরে আসবে সেই অপেক্ষায় সবাই।”

আজও অপেক্ষার প্রহর গুনছে নিখোঁজ হওয়া পরিবার গুলো। এরা সবাই ছিল পরিবারের উপার্জনের একমাত্র ব্যক্তি। এদের পেশা ছিল নদীতে মাছ শিকার করা। প্রতিবারের মতো মাছ ধরতে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু আর যে ফিরে আসবে না স্বজনদের কাছে, এটা কে জানে?
প্রতিটি নিখোঁজ হওয়া পরিবারে প্রায় ৩-৪ জন করে সদস্য আছে। যাদের দেখার কেউ রইল না। এসব পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আয়ের একমাত্র উৎসে থাকা এসব পরিবারের সদস্যদের সন্ধান না মেলায় আর্থিকভাবে মারাত্মক দুশ্চিন্তায় ভুগছে স্বজনরা। নিখোঁজ হওয়া ১৩ জনের মধ্যে ৩ জন রামগতি আলেকজান্ডার বালুরচর, বাকির দশজন কমলনগর পাটোয়ারীহাট ইইনিয়ন।

ট্রলারের মালিক বরগুনার পাথরঘাটার আবুল কালাম জানান, জেলেরা নিখোঁজের পর থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। ঘটনা ঘটেছে ভারতের সীমানায়। এজন্য ভারতে গিয়েও খোঁজ নিয়েছি। কিন্তু এখনও আমরা তাদের কোন খোঁজ পাইনি। আমরা ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে থানায় জিডি করেছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ মেলেনি। তাই এ সম্পর্কে আমি অবগত না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে পক্ষ থেকে যদি কোন আবেদন আসে, তাহলে যে কোনভাবেই হোক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ