প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছেঁউড়িয়ায় দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত সাঁইজির বারামখানা

আব্দুম মুনিব,কুষ্টিয়া: সাধুর হাটে সাধুর আরাধনা। লালনের মর্মবাণী উপলব্ধী অতঃপর খাঁটি মানুষ হবার প্রাণান্তর চেষ্টা। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আঁখড়ায় সাঁইজির প্রয়ান দিবসের অনুষ্ঠানে তাই সাধু বাউলদের নিজেকে খোঁজার এক প্রানান্তকর চেষ্টা।

বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১২৮ তম তিরোধান দিবসের দ্বিতীয় দিনেও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত সাঁইজির বারামখানা।

আজ হতে ১২৭ বছর আগে দেহত্যাগ করেছিলেন বাউল সাধক ফকির লালন সাঁই। সেই থেকে ফকির লালনের অনুসারী কিংবা ভক্তরা সাঁইজিকে জানতে ছুটে আসেন তাঁরই ধামে। খাটি মানুষ হবার বাসনায় এক সাধু আরেক সাধুতে হারিয়ে যান ভাবের জগতে। ‘সত্য বল সুপথে চল, মানুষ ভোজলে সোনার মানুষ হবি ’এমন মরমি বানীকে উপলব্ধি করে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রানান্তর চেষ্টা গানে গানে।

বাউল সাধু বৈষ্ণব বছরে দু’টি উৎসবে সামিল হন সাঁইজির আখড়াবাড়িতে। একটি দোল পুর্ণিমায়, আর অপরটি তিরোধান দিবসে। তবে তিরোধান দিবসটা যেন আবেগ ছুয়ে যায় বাউল সাধু মনে। আর তাইতো এই দিনটি আসলেই দেশ বিদেশের সব প্রান্ত থেকে সব শ্রেনীর মানুষ ছুটে আসেন সাঁইজির ধামে। মঙ্গলবার (১৬অক্টবর) সন্ধায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় তিনদিনের তিরোধান দিবসের আনুষ্ঠানিকতা। আলোচনা সভা শেষে রাত ৯টায় শুরু হয় সংগীত অনুষ্ঠান। লালন শিল্পীদের দলীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু গানের অনুষ্ঠান চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

আজ বুধবার বিকালে দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সাংসদ আব্দুর রউফ, পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাত, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী, জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, বিশিষ্ট লেখক, কলামিষ্ট ও গবেষক শেখ গিয়াস উদ্দীন আহমেদ মিন্টু, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুর রশীদ চৌধুরী। আলোচক হিসেবে থাকছেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আবুল আহসান চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লালন একাডেমীর এডহক কমিটির সদস্য শহিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন লালন একাডেমীর এডহক কমিটির সদস্য সচিব ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর রবিউল ইসলাম। বুধবার পুণ্যসেবার মধ্য দিয়ে সাধু সঙ্গ শেষ হলেও আগামী দৌল উৎসবে আবার সাক্ষাৎ মিলবে এমন প্রত্যাশা সকল বাউল সাধু ভক্তানুরাগীদের।