প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা নাজমুন এবার আজারবাইজানে

সাব্বির আহমেদ : এবার আজারবাইজানের আকাশে উড়াবে লাল-সবুজের পতাকা। এ নিয়ে ১০৯টি দেশে বাংলাদেশের পতাকা উড়াচ্ছেন তিনি। আজ বুধবার বিকেলে স্টকহোম থেকে বাল্টিক এয়ারের ফ্লাইটে রওনা হবেন বাংলাদেশের পতাকাবাহী প্রথম বিশ্বজয়ী নারী পরিব্রাজক নাজমুন নাহার।

মঙ্গলবার রাতে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় নাজমুন নাহারের। রয়েছেন সুইডেনের একটি শহরে। আজারবাইজানে যাওয়ার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ। এখন উড়াল দেবার পালা। স্বদেশের লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে ধরবেন। লাল সবুজের দেশ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

নাজমুন নাহার বাংলাদশের পতাকাবাহী প্রথম বিশ্বজয়ী নারী পরিব্রাজক; যিনি বিশ্ব ভ্রমণের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে বিশ্ব শান্তির দূত হিসেবে জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। অল্পতেই বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত নারী হয়ে ওঠেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী।

মৃত্যুকে উপেক্ষা করে লাল সবুজের পতাকা হাতে পৃথিবীর পথে পথে ছুটছেন নাজমুন।পার হয়েছেন সমুদ্র থেকে সমুদ্র। ভ্রমণ করেছেন অনেক দ্বীপের দেশ। সমুদ্রের গভীরে গিয়েছেন বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে।

২০০০ সাল। বিশ্ব ভ্রমনের প্রথম যাত্রা। ইন্ডিয়ার পাঁচামরিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল এডভেঞ্চার প্রোগ্রামে’ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফোকাসে আসেন নাজমুন। বিশ্বের আশিটি দেশ থেকে আসা ছেলে মেয়েদের সামনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধমে বিশ্ব শান্তি ও একত্বতার কথা তুলে ধরেন। তারপর পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি চলছেন পৃথীর এক এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। দেশকে দেশ ভ্রমণ করে শিশু ও তরুণদের নানাভাবে উৎসাহিত করছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে ৯৩তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেছেন নিউজিল্যান্ড। এই দুর্দান্ত সাহসী নারী একে একে বাংলাদেশের পতাকাকে পৌঁছান সর্বোচ উচ্চতায়। ২০১৮ সালের ১ লা জুন নাজমুন একশ দেশ ভ্রমণের মাইলফলক সৃষ্টি করেন পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে।

নাজমুন জানান, মৃত্যুকে বহুবার কাছ থেকে দেখেছেন। তার ভ্রমণ যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। মৃত্যু ভয়ে পিছিয়ে যাননি, বাংলাদেশের পতাকা হাতে জয় করে চলছেন এক এক করে প্রতিটি যাত্রা। বন্য প্রাণী ভরা জঙ্গলে রাত কাটিয়েছেন, গরুর কাঁচা মাংস খেয়ে বেঁচে ছিলেন! অনেক পাহাড়ি অঞ্চলে না খেয়ে থেকেছেন। ক্ষুধা পেটে গাছ থেকে ভেঙে খেয়েছেন কাঁচা বাদাম।

তিনি বলেন, ‘আমার জন্মই যেন ভ্রমণের মাধ্যমে বিশ্ব মানবতার কাছাকাছি পৌঁছানো। তাদের জন্য কাজ করে যাওয়া।
ইচ্ছা সবসময় অবহেলিত মানুষদের জন্য কাজ করা। যখন ভাবি মহাকাশের অন্য গ্রহ থেকে পৃথিবীর দিকে তাকালে পৃথিবীকে মনে হয় একটা ব্লু ডট। এই ব্লু ডট মহাশূন্যের মধ্যে ভাসমান একটি গ্রহ, যার নাম পৃথিবী, যেখানে আমরা বসবাস করি। বিভাজন করি মানুষে মানুষে। অল্প সময়ের জন্য আসা এই পৃথিবীতে ভেদাভেদে মেতে উঠি’।

নাজমুন পেয়েছেন মাইলফলককে সম্মাননা। জাম্বিয়া সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন ফ্ল্যাগ র্গাল উপাধি। তারপর ফ্ল্যাগ গার্ল খ্যাত নাজমুন নাহারকে নিয়ে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক মিডিয়া ‘জাম্বিয়া ডেইলি মেইল’ এর বিশেষ ক্রোড়পত্রে ৩ জুন ২০১৮ প্রকাশিত হয় একটি ফিচার স্টোরি!

লক্ষ্মীপুরের মেয়ে নাজমুন নাহারের বেড়ে ওঠা ছিল ভিন্নরকম। পারিপাশ্বিক বাধা বিগ্ন থাকলেও নিজের ভেতরে বড় বড় স্বপ্ন ধারণ করায়, পড়ালেখায় একাগ্রচিত্ত থাকায় এবং এক লড়াকু বাবার ছায়াতলে বেড়ে উঠা নাজমুনকে কখনো পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। ছোট বেলায় সব ধরনের বই পড়তেন। তবে ভ্রমণবিষয়ক বইয়ে ঝোঁক একটু বেশিই ছিল। তা পাঠ্যবইয়ের ভ্রমণকাহিনি হোক কিংবা পত্রিকায় প্রকাশিত কোনো ভ্রমণ কাহিনী হোক।

পৃথিবী এডভেঞ্চারের দারুন সব ইন্সপেরেশনাল গল্পের মাধ্যমে নাজমুন বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে জাগিয়ে তুলতে চান। প্রত্যাশা, বিশ্বের বাকি দেশের মানুষের কাছে পৌঁছানো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত