প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জীবননগরে নিখোঁজের এক মাস পর যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার

জামাল হোসেন খোকন: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের এক যুবক বাড়ি থেকে নিখোঁজের এক মাস তিনদিন পর বুধবার সকালে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে একটি বাগানের ভিতর থেকে জীবননগর থানা পুলিশ কঙ্কাল উদ্ধার করেছেন। নিখোঁজ যুবকের নাম জিয়ারুল ইসলাম জিয়া(৩৮)।

নিহত যুবকের পারিবারিক সুত্র জানান, জীবননগর উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আজিজুল হকের ছেলে জিয়ারুল ইসলাম জিয়া গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ছোট শিশু পুত্রকে মারপিট করার ঘটনায় স্ত্রীর সাথে গন্ডগোল করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরবর্তীতে বাড়িতে জিয়া ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুজি করেন। কিন্তু কোথাও তার খোঁজ পান না। এক পর্যায়ে বুধবার সকালে হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে বাগানের ভিতরে জিয়ার লাশের কঙ্কাল ও তার গায়ের জামা এবং লুঙ্গী দেখে ধারণা করা হয় কঙ্কালটি জিয়ার। পরে পুলিশ খবর পেয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেন।

নিহত জিয়ার স্ত্রী শুকজান খাতুন বলেন, আমি গত ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে আমার ছোট ছেলে ঝামেলা করায় আমি তাকে মারপিট করি। এ ঘটনায আমার স্বামী জিয়া আমার প্রতি অভিমান করে আমাকে চড় থাপ্পড় দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে বাড়িতে ফিরে না আসায় সমস্ত আত্বীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুজি করি। কিন্তু কোথাও কোন সন্ধান পাই না। গতকাল হঠাৎ করেই শুনি স্কুলের পিছনে বাগানের ভিতরে একটি মানুষের কঙ্কাল পড়ে আছে। আমরা সেখানে গিয়ে দেখি যে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা লুঙ্গী ও জামা আমার স্বামীর। নিখোঁজের ব্যাপারে থানায় জিডি করতে গিয়েছিলাম,কিন্তু পুলিশ জিডি নেয়নি।

সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, নিহত যুবক জিয়া আমার গ্রামের ছেলে। তার নিখোঁজের ব্যাপারটি আমি শুনেছিলাম। কঙ্কাল দেখে লাশটি কার তা বোঝা মুসকিল। তবে তার পরিবারের সদস্যরা গায়ের জামা ও লুঙ্গী দেখে ধারণা করছেন কঙ্কালটি নিখোঁজ জিয়ারই।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ গনি মিয়া বলেন, কঙ্কালটি পুরোপুরি না পাওয়ায় লাশ সনাক্ত করা দুস্কর হয়ে পড়েছে। তবে পরিবারের দাবি অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারকৃত কঙ্কালটি নিখোঁজ জিয়ার। কঙ্কালটি চুয়াডাঙ্গা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।