প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হিন্দু রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক

শ.ম.গফুর,উখিয়া(কক্সবাজার): বাংলাদেশী সনাতনী ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হিন্দু রোহিঙ্গারা একত্রে শারদীয় দূর্গোৎসব পালনের মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করলেন বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কর্তৃক আয়োজিত মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত হিন্দু রোহিঙ্গাদের শারদীয় দূর্গোৎসব উদযাপন উপলক্ষে কুতুপালং হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক এবিএম মাসুদ হোসেন একথা বলেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ উখিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি স্বপন শর্মা রনির সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বিকাল ৪ টার দিকে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক আরো বলেন, সরকার মিয়ানমার থেকে ঠেলে দেয়া বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক অবদানের প্রেক্ষিতে হিন্দু রোহিঙ্গা জনগোষ্টীরা তাদের ধর্মীয় উৎসবে সামিল হতে পেরে আনন্দিত। তিনি বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের জন্য প্রশাসনের লোকজন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। কিন্তু রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাহিরে যেতে পারবে না।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য কক্সবাজার পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন বলেন, দেবী দূর্গার আগমণে যে আনন্দ উৎসাহ নিয়ে হিন্দু রোহিঙ্গারা পূজা পালন করছে তাতে পুলিশ প্রশাসন আনন্দিত। এটি একটি অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আগামী ১ বছর পর্যন্ত হিন্দু রোহিঙ্গারা যাতে সুখী সুন্দর জীবন কাটাতে পারে এমনটাই কামনা করছি।

সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এডিএম আশরাফুল আজিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী, সহকারী কমিশনার ভুমি একরামুল ছিদ্দিক, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডঃ রনজিৎ দাশ, রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডঃ রবিন্দ্র দাশ রবি, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক স্বজল কান্তি ধর ও জয়ধন ঘোষ।

রোহিঙ্গা হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, মধুরাম পাল। এর আগে জেলা প্রশাসক পূজা মন্ডপ উদ্ধোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে ও পূর্ণ নাগরিকত্বের মাধ্যমে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য সরকার কাজ করছে। এসময় পুলিশ সুপার বলেন, শারদীয় দূর্গোৎসব পালনকালে শান্তিশৃংখলা রক্ষায় পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। পরে জেলা প্রশাসক ১০১ পরিবারে ৪৫০জন হিন্দু রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করেন। অনুষ্ঠান শেষে কক্সবাজার যাওয়ার পথে উখিয়া কেন্দ্রীয় পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত