প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১২ দশমিক ১৪%

যায়যায়দিন : আমদানির তুলনায় রপ্তানি কমে যাওয়ায় ক্রমেই বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি। চলতি অথর্বছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) আমদানিতে ৮৮২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় হলেও রপ্তানি হয়েছে ৬৭১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের।

এতে বাণিজ্য ঘাটতি ২১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০১৭-১৮ অথর্বছরের প্রথম দুই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩৪ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ।

রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় যেটুকু বেশি, এর পাথর্ক্যই বাণিজ্য ঘাটতি। আর চলতি হিসাবের মাধ্যমে দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝানো হয়। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তভুর্ক্ত হয়ে থাকে।

এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে সেটা পূরণ করতে হয়।

আমদানি ব্যয় বাড়লে রপ্তানি আয়ও বাড়েÑ এটাই অথর্নীতির স্বাভাবিক নিয়ম। কারণ, বিদেশ থেকে যেসব কঁাচামাল আমদানি করা হয়, এর একটি অংশ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে রপ্তানি হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রমই হয়ে আসছে দীঘির্দন ধরে।

ফলে আমদানির নামে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অথর্ পাচার হচ্ছেÑ এমন আশঙ্কা করছেন অথর্নীতিবিদরা। তারা বলছেন, আমদানির নামে যদি অথর্ পাচার হয়, তাহলে সেটা দেশের অথর্নীতির জন্য নেতিবাচক।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে যেভাবে মূল্যপতন হচ্ছে, আমদানির ক্ষেত্রে সেভাবে পৃষ্ঠা ১৫ কলাম ৪

হচ্ছে না। এতে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবের্শষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম আবারও বেড়েছে। তিন মাসের বেশি সময় ধরে একই থাকার পর প্রতি ডলারে পঁাচ পয়সা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৮৩ টাকা ৮০ পয়সা। তিন মাস আগে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ৮৩ টাকা ৭৫ পয়সা মূল্য বেঁধে দেয়।

এখন তা আরও পঁাচ পয়সা বেড়েছে। তবে এক রকম ঘোষণা দিয়ে আরেক দামে ডলার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে। এমন পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স যদি কমে যায়, তাহলে ডলারের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টাকার অবমূল্যায়ন আরও বাড়বে। এতে রপ্তানি আয়ের ওপর চাপ আরও বেড়ে যাবে।

এদিকে নিবার্চনের আগে দেশ থেকে টাকা পাচার বেড়ে যায়। এখন বিশ্বব্যাপী টাকা পাচার বা মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ি হওয়ায় আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমে টাকা পাচার হয়ে থাকে।

রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েসিং ও আমদানির ক্ষেত্রে ওভার ইনভয়েসিং করে টাকা পাচার হয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য হচ্ছে না। এখন নিবার্চনের সময় এই সামঞ্জস্যহীনতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ