প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রশ্ন ফাঁসের হোতারা অধরা

কালের কন্ঠ : প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের মীমাংসা না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ফল স্থগিতের ঘোষণা দিলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তা প্রকাশ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, প্রশ্ন ফাঁস বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ফল প্রকাশ করা হয়। তদন্তে কিছু ব্যক্তি ও পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করেছে বা প্রশ্ন ফাঁস করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেছেন, প্রশ্ন ফাঁসে সবাই জড়িত নয়, তাই সবার ফল বাতিল করা হচ্ছে না। তবে পুলিশের তদন্তে চিহ্নিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অ্যাপসে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঘটনার মূল হোতাদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত শুক্রবার ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গতকাল পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁসের মূল হোতা রানা ও লিমনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাম্পাসের বাইরে ৮১টি কেন্দ্রে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর ৩১ মিনিট পরই হাতে লেখা প্রশ্নপত্রের ১৪টি ছবি সাংবাদিকদের হাতে আসে। পরে যাচাই করে দেখা যায়, এ প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৪৩ মিনিট আগে (সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে) এক শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে আসে। এ ঘটনার পরে ‘প্রশ্ন ফাঁসের’ অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এরপর সোমবার রাতে উপাচার্য বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। সেখানে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নিয়েই ফল প্রকাশ করা হলো।

ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এতসংখ্যক শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে খেলার অধিকার আমাদের নেই। কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া ব্যবস্থা নিতে পারব না।’

উপাচার্য আরো বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল বাতিল করা হয়নি। যেভাবে ফল এসেছে সেভাবেই প্রকাশিত হয়েছে। এরপর যখনই যে স্তরেই চিহ্নিত হোক না কেন তাদের ভর্তি বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বছরও আমরা জালিয়াতির অভিযোগে ভর্তি বাতিল করেছি। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স।’

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সোমবার রাতে হাতে পেয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এটা এক ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি হয়েছে। ডিজিটাল জালিয়াতিগুলো চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে তদন্ত কমিটি। এই পর্যন্ত আমরা যে কয়জনের বিষয়ে জানতে পেরেছি, সেগুলো তাত্ক্ষণিক বাতিল হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে তথ্য-প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উপাচার্য জানান, পাস করা ভর্তীচ্ছু শিক্ষার্থীরা (বিজ্ঞান মেধাক্রম ৩৫০০ পর্যন্ত, মানবিক মেধাক্রম ৬০০ পর্যন্ত ও বাণিজ্য মেধাক্রম ১০০০ পর্যন্ত) আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে গিয়ে বিস্তারিত ফরম ও বিষয় পছন্দক্রম ফরম পূরণ করতে পারবে।

এদিকে শাহবাগ থানায় গ্রেপ্তার করা পরীক্ষার্থী ইনসান আলী রকি (১৯), তার বাবা জাহিদুল ইসলাম (৪৫), সহযোগী মোস্তাকিম হোসেন (২০), সাদমান সালিদ (২১), তানভীর আহমেদ (২১) ও আবু তালেবকে (১৯) রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। থানার পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ছায়া তদন্ত করছে। গতকাল সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বগুড়ার রানা ও লিমনকে খুঁজছি আমরা। তাদের পাওয়া গেলে এর সঙ্গে আর কে বা কারা জড়িত আছে, তা জানা যাবে।’

ফল বাতিলের দাবি প্রগতিশীল ছাত্রজোটের : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ও ঘোষিত ফলাফল বাতিলের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। একই সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, ‘ঘ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিমের পদত্যাগ দাবি করেছে তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ