প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিয়ের আয়োজন করতে গিয়ে ধরা

সমকাল : বছরখানেক আগে খাদিজা নামে এক নারী জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। জামিন পেয়ে আবার উগ্রবাদে জড়ায় সে। সেই খাদিজা দ্বিতীয় দফায় হয়ে ওঠে আরও ভয়ঙ্কর জঙ্গি। সংগঠনের নির্দেশে তাকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই দায়িত্ব পালন করছিল নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা আবু আবদুল্লাহ। বিদেশে পলাতক এক জঙ্গির সঙ্গে খাদিজার বিয়ে দেওয়ার সব আয়োজন প্রায় সম্পন্ন করে ফেলে সে। গতকাল মঙ্গলবার শেখেরচরে আবদুল্লাহর ভাড়া বাসায় কনেকে নেওয়ার কথা ছিল। বাসাটি জঙ্গি আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিল সে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রবাসী জঙ্গির সঙ্গে খাদিজার বিয়ে পড়াতে চেয়েছিলেন আবদুল্লাহ।

তবে সেই আসর বসার আগেই গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে নব্য জেএমবির দুই পাত্র-পাত্রীর বিয়ের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর শেখেরচরে চালানো হয় অভিযান। ভেস্তে যায় খাদিজার বিয়ে। জঙ্গি কর্মকাণ্ডের তথ্য রাখেন- এমন একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নরসিংদীর মাধবদী ও শেখেরচরে দুটি জঙ্গি আস্তানা একসূত্রে গাঁথা। উভয় আস্তানায় বসবাসকারীরা পরস্পরের পূর্বপরিচিত। একই সময়ে তারা বাসা ভাড়া নেয়। মাধবদীর গাঙপাড়ের আফজাল হোসেনের সাততলা বাড়ির সপ্তমতলা ভাড়া নেয় খাদিজা ও তার এক বান্ধবী। এখনও খাদিজার বান্ধবীর নাম জানা যায়নি। ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় মিফতাহুল জান্নাহ নামে একটি মহিলা মাদ্রাসা রয়েছে। পরস্পর যোগসাজশে দুই কিলোমিটার দূরত্বে শেখেরচরে বাসা ভাড়া নেয় আবদুল্লাহ ও তার স্ত্রী। খাদিজার বিয়ে উপলক্ষে গত কয়েক দিন নরসিংদীতে জঙ্গিদের গোপন আসর বসে। বিয়ের আসরে উপস্থিত থাকতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১২ জন উগ্রপন্থি নরসিংদী যায়। গোয়েন্দারা তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

শেখেরচরের আবদুল্লাহর আস্তানায় অভিযানের পর আস্তানা পরিদর্শনকারী একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাসার দেয়ালের গায়ে ইংরেজিতে ‘আইএস’ লেখা আছে। আছে ‘দৌলাতুল ইসলাম’ লেখা। উগ্রবাদ সমর্থনে আরবিতে বেশ কিছু লেখাও আছে। এর আগে বিভিন্ন জায়গায় নব্য জেএমবির উগ্রপন্থার এ ধরনের কিছু বাক্য লেখা দেখা যায়।

শেখেরচরের অভিযান সমাপ্তির পর পুলিশের সদস্যরা মাধবদীর গাঙপাড়ের আস্তানায় থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা সাড়া দেয়নি। যে কারণে আজ বুধবার দিনের আলোয় এই আস্তানায় অভিযান চালাবে পুলিশ। আস্তানাটি ঘিরে রেখেছেন পুলিশের একাধিক ইউনিটের সদস্যরা।

কর্মকর্তারা জানান, জঙ্গিদের মধ্যে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে বিয়ে করার রীতি অনেক পুরনো। এর আগে বেশ কয়েকজন জঙ্গি সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে বিয়ে করেছে। আর অনেকে বিয়ে করার পর তার স্ত্রীকে জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে। যেটা নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা নুরুল ইসলাম মারজান, সাগরসহ কয়েকজনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে।

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে বাসা ভাড়া পাওয়া কষ্টসাধ্য হওয়ায় জঙ্গিরা অন্যত্র আস্তানা তৈরি করছে। বিশেষত রাজধানীর আশপাশের জেলা, চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলার দিকে ঝুঁকছে তারা। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ায় অনলাইনেই সদস্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রায় সব কাজ করছে জঙ্গিরা। এর আগে ৫ অক্টোবর র‌্যাব সীতাকুণ্ডে অভিযান চালায়। সেখানে নিহত হয় জেএমবির দুই সদস্য। প্রায় আট ঘণ্টার অভিযান শেষে ওই আস্তানা থেকে একে-২২ রাইফেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।