প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ফুচকা

আর টিভি অনলাইন : ফুচকা! রাস্তার পাশের খাবারের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও চটকদার খাবার। তাই ক্ষুদ্র পুঁজির ব্যবসাটি থাকে সবসময়ই জমজমাট। এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায়, যেনতেনভাবে ফুচকা বানিয়ে বাজারে ছাড়ছে।
ছুটির পর রাজধানীর যেকোনো স্কুল-কলেজের বাইরের দৃশ্য থাকে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো। সবচেয়ে বেশি ভিড়টা হয়, ফুচকার দোকান ঘিরে। উদ্দেশ্য, নানা মসলায় তৈরি সুস্বাদু খাবারটি খাওয়া। বিশেষ করে মেয়েদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার এই ফুচকা।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুলের শিক্ষার্থী মেহের বলেন, খাবারটা স্বাস্থ্যসম্মত না হলেও, খেতে বেশ মজাদার। তাই খাওয়ার লোভ সামলাতে পারি না।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার পরিবেশন করলেই, তা স্বাস্থ্যসম্মত হয় না। যার বড় প্রমাণ ফুচকা তৈরির প্রক্রিয়া। যা দেখে চটকদার খাবারটির প্রতি অনেকেরই মোহ কেটে যেতে পারে।

যাত্রাবাড়ির পাশে মিরহাজীরবাগ এলাকা। রাজধানীর বেশিরভাগ ফুচকা তৈরি হয় এখানে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে আটার খামির তৈরি করা হচ্ছে। সেই খামিরের উপর তেলাপোকা ও মাছি উড়ে বেড়াচ্ছে। প্রতিটি ঘরেই এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হয় ফুচকা। শেওলা ধরা আটা দিয়ে বানানো হচ্ছে কাঁচা ফুচকা।

ফুচকা বানানোর কর্মী জাহানারা বেগম বলেন, আমরা মেঝেতে বসে কাজ করি। মেঝে পরিষ্কারের পর আমরা সেখানে বসে ফুচকা বানাই।
কড়াইয়ের তেল দেখে যেকারো মনে হতে পারে, পোড়া মবিল। পুড়ে যাওয়া এই পাম অয়েল দিয়েই দিনের পর দিন ভাজা হচ্ছে ফুচকা।
ফুচকা বানানোর অন্য এক কর্মী আফরোজা বলেন, আমরা ফুচকা ভাজার তেল সাতদিন পর পর বদলায়। তেল শেষ না হলে কীভাবে তেল ফেলে দেবো।
টেলিভিশন ক্যামেরা দেখে তেড়ে আসেন স্থানীয় কয়েকজন মাস্তান। তবে ক্যামেরায় ছবি উঠছে বুঝতে পেরে কেটেও পড়েন।
চিকিৎসকরা বলছেন, এসব ফুচকা পেটে গেলে ক্যান্সারসহ নানা দুরারোগ্য ব্যাধি হতে পারে।
ডা. আবদুল মালেক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে একদিনে কিছু হবে না। দীর্ঘদিন ধরে খেলে স্বাস্থ্যের মারত্মক ক্ষতি হতে পার। লিভার এবং কিডনির সমস্যা হতে পারে।