প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-পরীক্ষা: জাতির বিবেকদের কাছে জিজ্ঞাসা

আর রাজি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির একটা সহায়িকা থেকে গত বছরের গ-ইউনিটের প্রশ্নপত্রের বাংলা অংশের দুই শিফটের প্রশ্নপত্র এটি (নিচে দেখুন)।

আপনারা একটু নজর দিন। এবার বলুন, এই দুই ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী কি একই ফলাফল করবে? কোনো একটি ইউনিটে (বিভাগ/অনুষদে) ভর্তির জন্য এরকম ৫/৬ সেট ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং এরই ভিত্তিতে তারা ভর্তির যোগ্য শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক যোগ্যতার তালিকা তৈরি করে।

পাঁচটা ভিন্ন প্রশ্নপত্রে যারা পরীক্ষা দিচ্ছেন তাদের যোগ্যতার তুলনামূলক মূল্যায়ন কীভাবে একই প্রাপ্ত নন্বরের ভিত্তিতে করা সম্ভব, আমার মাথায় ঢোকে না!

চিত্রটা প্রায়ই এমন:
একই দিনে পাঁচ/ছয় বার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবার ৫/৬ হাজার ভর্তিচ্ছু পরীক্ষা দেন। এরপর এই ২৬/৩০ হাজার ভর্তিচ্ছুদের মধ্যে থেকে ২/৩/৫ শ সংখ্যাক শিক্ষার্থীকে তাদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যোগ্য বলে নির্বাচন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো, একই প্রশ্নপত্রে, একই সময়ে পরীক্ষা নিয়ে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে যদি মেধাতালিকা তৈরি করা হতো, তাহলে এ প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকতো না। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতে পরীক্ষা নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নম্বরের ভিত্তিতে কীভাবে ভর্তিচ্ছুদের মানের তুলনামূলক মূল্যায়ন সম্ভব? এর কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারবেন?

হাজার হাজার ছেলে মেয়ের স্বপ্ন কীভাবে, কী প্রক্রিয়ায় চাপা পড়ে যায়, ভেবে দেখেছেন?

বিশ্ববিদ্যালয়ে একবারে সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষা যদি নেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিভিন্ন স্থানে তাদের পরীক্ষা নেওয়া যায়। অনেকেই তাই নেয়। বিসিএসের মতো পরীক্ষা একই সাথে, একবারে সারাদেশে হতে পারলে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না কেনো? অর্থের হিসাব-নিকাশ ছাড়া এখানে আর কোন কোন বিবেচনা কাজ করতে পারে? শিক্ষকরা, জাতির বিবেক, কী উত্তর দেবেন, দেন আপনারা?

(ফেসবুক থেকে নেওয়া)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ