প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলামে খাদ্যে ভেজালের পরিণতি

মো. আবু তালহা তারীফ : বিশ্ব খাদ্য দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে সমন্বিত বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ও আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। সঠিক ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।

আমরা জীবন ধারণের জন্য পানাহার করি। এই খাদ্য-পানীয় আমাদের দেহে পুষ্টি জোগায়। রোগ প্রতিরোধ করে এবং সর্বোপরি আমাদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘ও হে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের আমি যেসব পবিত্র বস্তু রিজিক হিসেবে দান করেছি, তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যদি তোমরা শুধু তারই ইবাদত করে থাকো।’ (সুরা বাকার, আয়াত : ১৭২)

খাদ্যে ভেজাল মেশানোর ফলে আজ ডায়াবেটিস মহামারীর মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। হূদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বৈকল্য, চর্মরোগ ইত্যাদি ব্যাধি মানুষের দেহে বাসা বেঁধে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অবৈধ রাসায়নিক মিশিয়ে পবিত্র খাদ্যকে মানুষের জন্য ক্ষতিকর বস্তুতে পরিণত করা গর্হিত কাজ। এই কাজ শয়তানের অনুসরণকারীরাই করে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র বস্তু রয়েছে তোমরা তা খাও, আর তোমরা শয়তানের অনুসরণ করবে না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৬৮)

অনুমোদিত সংরক্ষক ব্যতিরেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা প্রতারণার শামিল। যারা প্রতারণা করে, তারা ইসলামের দলভুক্ত নয়। কেননা রসুল (সা.) বলেন, ‘যে প্রতারণা করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (বুখারি) ভেজাল দ্রব্য কিংবা দোষযুক্ত দ্রব্য বিক্রি করা ইসলামের দৃষ্টিতে বিধিসম্মত নয়। রসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দোষযুক্ত জিনিস বিক্রি করল অথচ ক্রেতাকে তা অবগত করল না, সে সর্বদা আল্লাহর ক্ষোভে পতিত থাকবে।’ (ইবনে মাজাহ)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) একদিন এক ব্যক্তিকে দুধে পানি মেশাতে দেখে বললেন, কিয়ামতের দিন তোমাকে দুধ থেকে পানি পৃথক করতে বলা হবে, তখন তোমার কী উপায় হবে? (আল হাদিস)। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করবে সে আমাদের নয়। কূটকৌশল ও প্রতারণা জাহান্নামে যাবে।’ (তাবরানি)

তাছাড়া কোনো খাদ্য ওজনে জালিয়াতি বা কম দেওয়ার ব্যাপারে প্রিয়নবী (সা.) বলেন, কোনো জাতির মধ্যে ওজনে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে অবশ্যই তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেবে (ইবনে মাজাহ)। প্রিয়নবী অন্যত্র বলেছেন, ‘ওজন কম এবং উপাদান সঠিক মাত্রায় না দিলে আল্লাহ সে সমাজের জীবিকা সঙ্কুচিত করে দেন।’ (আত-তারগিব, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা নং-৩০)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ