প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জোটের ভাঙনে বিএনপিতে বিস্ময়

বাংলা ট্রিবিউন : অর্ধযুগেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক ছিন্ন করে বিশ দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপির চলে যাওয়ায় বিস্মিত বিএনপি। জোটগত রাজনীতিতে আসা-যাওয়ার ব্যাপারটিকে স্বাভাবিকভাবে দেখলেও মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) এই দুই দলের জোটত্যাগে অবাক হয়েছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। যদিও কোনও-কোনও নেতা মনে করেন, বিশ দলীয় জোটের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া বাকি দলগুলো কেবলই সংখ্যার মারপ্যাঁচ। আর এই মারপ্যাঁচের কারণে ছুটে যাওয়া দলগুলোয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও তারা মনে করেন। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের মতে, ভুল বোঝাবুঝির কারণেই দল দুটির এই জোটত্যাগ। তারা এও মনে করেন, দল দুটি আবারও ২০ দলীয় জোটে ফিরে আসবে।

বিএনপি নেতাদের কেউ-কেউ মনে করেন, গত কয়েক বছরে বিএনপি-জোট ছেড়ে দিয়ে যে কয়টি দল বিদায় নিয়েছে, প্রত্যেকটি দলই রাজনৈতিকভাবে সামনে যেতে পারেনি। এর আগে ২০১৫ সালে শেখ শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এবং আলমগীর মজুমদারসহ কয়েকজন বেরিয়ে গেলেও তারা রাজনৈতিকভাবে আর কোনও কর্মকাণ্ড করতে পারেনি। এরপর ২০১৬ সালে বেরিয়ে যায় ইসলামী ঐক্যজোট। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে দলটির যোগাযোগ ভালো হলেও ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে তারা এরপর হেফাজতের ‘বি’ টিম হয়েই রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ভাষ্য, ‘নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর নানা ধরনের চিন্তা চেতনা থাকে। তবে, সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, কমিটমেন্ট থাকতে হবে। যে দলগুলো গত ১০ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, তাদের মধ্যে হঠাৎই কেউ বেরিয়ে গেলে দেখতে খারাপ দেখায়। বোঝা যায়, তাদের কমিটমেন্টের ঘাটতি আছে।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বলছেন, ’২০ দলীয় জোটে বিএনপি-জামায়াত ছাড়া বাকি দলগুলো কেবল নামেই জোটবদ্ধ। কার্যত, গত ১০ বছরে তাদের দলীয় কার্যক্রমও অনেকটাই ‘নাই’ হয়ে গেছে। দুই-একটি দল প্রেসক্লাবভিত্তিক সভা-সমাবেশ করলেও সাংগঠনিক তৎপরতা প্রায়ই নেই। সে ক্ষেত্রে ছোটখাটো দল জোটত্যাগ করলেও ২০ দলীয় জোটের তাৎপর্য নষ্ট হবে না।’

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বিএনপি স্বাতন্ত্র্য ও বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। জোট তো ভাঙা-গড়া প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। যারা এসেছেন, তারা আগেও গেছেন। আমাদের টার্গেট—গণতন্ত্র নিশ্চিত করা, মানুষের মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা। গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াইয়ে কেউ যদি না থাকতে চায়, তাহলে সেটা তাদের ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করে।’

মঙ্গলবার বিকালে গুলশানের একটি হলে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি অভিযোগ করেন, ‘আজকে এই মুহূর্ত থেকে ন্যাপ ও এনডিপি সাংবিধানিক এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির স্বার্থে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে শরিক হিসেবে সব সম্পর্ক ছিন্ন করছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ক্ষেত্রে বি. চৌধুরীর সঙ্গে ফ্রন্ট গঠনের নায়কদের আচরণ আমাদের হতাশ করেছে। ড. কামাল, আ. স. ম. রব বা বিএনপির নেতৃস্থানীয়দের কাছে জাতি এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশা করে না।’

এ বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এই ঘটনায় আমরা বিস্মিত। ১৫ অক্টোবর ২০ দলীয় জোটের মিটিংয়ে এই দুই দলের মহাসচিব উপস্থিত ছিলেন।জোটের সিদ্ধান্তেও তারা একমত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনেও উপস্থিত ছিলেন তারা। কিন্তু তারা যে সমস্যার কথা বলে জোট ছেড়েছেন,এসব বিষয়ে জোটের মিটিংয়ে কিছু বলেননি তারা। তারপরও কী মনে করে জোট ত্যাগ করেছেন, আমরা এর কিছুই জানি না।’

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা, এটা ভুল বোঝাবুঝির কারণেই ঘটেছে। আশা করি, তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন। আবারও জোটে ফিরে আসবেন। তাদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তারা দু’টি বিষয়ের কথা বলেছেন। এরমধ্যে আমরা এখনও বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট নির্বাচনের অংশ নেওয়া বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। সুতরাং কোন দল বা কোন নেতা কোন জায়গায় কোন আসন পাবেন, তা ঠিক হয়নি। নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হলে তখন জোটের শীর্ষ নেতাদের অভিমতের গুরুত্ব দেওয়া হতো। কাজেই জোট ছাড়ার জন্য এটা কোনও কারণ হতে পারে না।’

দুই স্তরের নেতৃত্ব থাকবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে

বিএনপি, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দ্রুত জোটের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও নিয়মিত যোগাযোগ বাড়াতে দু’টি কমিটি করবে। মঙ্গলবার দুপুরে উত্তরায় জোটের বৈঠকে নেতারা প্রাথমিকভাবে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকসূত্র জানায়, জোটের শীর্ষ চার নেতার সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি হবে। এই কমিটি জোটের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে। এতে শীর্ষ চার বা পাঁচ নেতা অংশ নেবেন। ড. কামাল হোসেন এই কমিটিতে থাকবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে জোটের নেতাদের মনে। এই কমিটি কীভাবে হবে, আকার কী হবে, এ বিষয়ে এখনও আলোচনা শুরু হয়নি।

জাতীয় ঐক্যজোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও কর্মসূচি দেওয়ার জন্য কাজ করতে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের আলোচনা হলেও বিএনপির কারণে তা বুধবারের বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে। ১৭ অক্টোবর বুধবার গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই লিয়াজোঁ কমিটিতে প্রত্যেক দল থেকে দু’জন করে সদস্য নির্বাচন করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ