প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বাধীন মত প্রকাশ করার সকলের অধিকার রয়েছে

প্রভাষ আমিন : আমি ব্যক্তিগতভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পক্ষে। কারণ, বাংলাদেশে ক্রমান্বয়ে যত বেশি ডিজিটালইজ হচ্ছে অপরাধ তাদের পরিচালনার জন্য ততই নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নামাচ্ছে। তাদের দমনের জন্য পুরোনো যে আইন রয়েছে তা দিয়ে তাদের দমন করা সম্ভব নয়। তাই তাদের দমনের জন্য নতুন আইনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এ আইন নিয়ে আমাদের শঙ্কার যায়গা রয়েছে। আর সেই জায়গাটি হচ্ছে, ডিজিটাল অপরাধীদের দমন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হয় কিনা। শুধু সাংবাদিকদের সাংবাদিকতা নয় এখানে সাধারণ জনগণের মত প্রকাশটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবং এটি সংবিধান স্বীকৃত।

সংবিধান স্বীকৃত রয়েছে যে সাধারণ মানুষ সাহসের সাথে সত্য কথাটা বলতে পারবে। তবে শুধুমাত্র সাংবাদিকরাই যে সত্য কথা বলতে পারবে আর সাধারণ মানুষ বলতে পারবে না, তা কিন্তু সঠিক নয়। সত্য কথা সকলেই বলতে পারবে এবং এটি সকলের জন্যই সমান। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যেভাবে করা হয়েছে, তাতে অপরাধীদের ধরার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বলে আমাদের সিনিয়র যারা আছেন, উনারা এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং মানব বন্ধন করেছেন। এবং নানাভাবে উনাদের দাবিটা তুলে ধরেছেন। কয়েকদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, যারা সৎ সাংবাদিকতা করবে এই আইনে তাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমি উনার এই আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়েও বলছি যে, একটি আইন একদিনের জন্য করা হয় না। একটি আইন তৈরি হলে শত বছর পর্যন্ত তার ব্যবহার থাকে। ব্রিটিশদের তৈরি করা আইন এখনো ব্যবহার হচ্ছে আমাদের দেশে। আর এটিই তার একটি বড় উদাহরণ।  সবার মঙ্গলের জন্য আইন তৈরি হলে যুগ যুগ ধরে তার সঠিক ব্যবহার হবে। তবে বর্তমান সরকার প্রধান আমাদের যে আশ্বাসটা দিয়েছেন, তা তিনি রাখলেন। কিন্তু ১০,১৫,২০ বছর পরে অন্য সরকার ক্ষমতায় থাকবে, তখন ঐ সরকার এই আইনের অপব্যবহার করবে। এই অপব্যবহার যেকোনো সময় হতে পারে। সেটাই আমাদের সম্পাদকরা এ আইনের ধারা উল্লেখ করে তুলে ধরেছেন।  এবং উনারা যে আশঙ্কা করছেন, তা সঠিক বলেই আমি মনে করি। তবে এই আইনের সাথে ৯৫ বছর আগের একটি আইন ট্যাগ করে দেওয়া হয়েছে। আর তাতে অনুসন্ধানি সাংবাদিকতা বিঘিœত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই আইনটি এমন ঢালাওভাবে করা হয়েছে যে, আপনার উদ্দেশ্য খারাপ থাকলে আপনি যে কোনো কাউকেই আটকাতে পারবেন এবং ভয়টা এখানেই। তবে সরকারের বিরুদ্ধে যে কোনো ব্যক্তি কথা বলতে পারেন।

তবে তা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে বলতে হবে। বর্তমান সরকার আইনটি সৎ উদ্দেশ্যে করে থাকলেও অন্য সরকার ক্ষমতায় আসলে তার অপব্যহার করতেও পারে। সেই শঙ্কা থেকে আমাদের কথা হচ্ছে, ডিজিটাল অপরাধীদের ধরার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনেক জরুরি। এবং যারা মিথ্যা প্রচার করে তাদের ঠেকানোর জন্যও এই আইন অত্যন্ত প্রয়োজন। অতীতে আমরা আইনের অপব্যবহার দেখেছি। ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যতটুকু শঙ্কার যায়গা রয়েছে, তা আগামী মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে স্পষ্টভাবে সংস্কার করা হলে আমি স্বাগত জানাবো।

পরিচিতি: প্রধান বার্তা সম্পাদক,এটিএন নিউজ/ মতামত গ্রহণ : তাওসিফ মাইমুন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ