প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৪০০ ডলার হবে : সৌদি গণমাধ্যম

নূর মাজিদ : সৌদি আরবের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আল আরাবিয়া চ্যানেলের মহাপরিচালক তুর্কি আদালখিল বলেছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যে কোন ধরণের পশ্চিমা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলে জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি ৪০০ ডলার হবে। রোববার আল আরাবিয়া চ্যানেলের অনলাইন নিউজে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে তিনি পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর প্রতি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ভিন্নমতালম্বি সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজি হত্যা নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চাপ বৃদ্ধি করছে ঠিক তখনই সৌদি গণমাধ্যমে এই সম্পাদকীয় প্রকাশিত হল। সেখানে তুর্কি আদালখিল লিখেছেন, (খাসোগজি ইস্যুতে) সৌদি আরবের ওপর যে কোন ধরণের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলাফল হবে ভয়াবহ। এতে এমন অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক ভিত্তি নড়ে যাবে। আপনারাই ভাবুন, তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার হওয়াতে যদি ট্রাম্প এতটা রুষ্ট হন তাহলে যখন তেলের দাম বাড়তে বাড়তে ৪০০ ডলারে গিয়ে পৌছবে তখন তার (ট্রাম্পের) কেমন অনুভূতি হবে।

এছাড়াও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নেয়া যে কোন মার্কিন ব্যবস্থা দেশটিকে রাশিয়ার শরণাপন্ন হতে বাধ্য করবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তুর্কি আদালখিল। তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে সৌদি আরব রাশিয়াকে নিজ দেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতিও দিতে পারে। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম বিশ্বে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে জামাল খাসোগজির নিখোঁজের বিষয়ে সৌদি সম্পপৃক্ততা ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দেশীয় গণমাধ্যমে লাখ লাখ ডলার প্রচারণার পেছনে খরচ করছে সৌদি আরব। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে অর্থের প্রলোভনে প্রভাবিত করতে ব্যর্থ হয়ে এবার নিজ দেশের গণমাধ্যমে নানা ধরণের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে দিচ্ছে সৌদি সরকার ও তাদের সমর্থক সাংবাদিকগণ। আল আরাবিয়া, আরব নিউজ এবং সৌদি বার্তা সংস্থার প্রকাশিত বিভিন্ন বিশেষ প্রতিবেদন ও সম্পাদকিয়গুলোতে খাসোগজি নিখোঁজের বিষয়ে হাজির করা হচ্ছে নানা ধরণের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব। তাদের দাবি, সৌদি আরবকে বিপদে ফেলতে মুসলিম ব্রাদারহুড, তুরস্ক ও কাতারের মতো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি একযোগে ষড়যন্ত্র করছে। এমনকি খাসোগজি নিরাপদে সৌদি কনস্যুলেট ত্যাগ করার পরেই এই সমস্ত শক্তি তার অর্ন্তধানের নেপথ্যে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। এমনকি জামাল খাসোগজির তুর্কি বাগদত্তা হাতিজ চেঙ্গিজকে তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একজন এজেন্ট বলে প্রচারণা চালাচ্ছে সৌদি আরবের গণমাধ্যমগুলো। এমনকি আল জাজিরার মতো কাতারি গণমাধ্যম এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম রূপকার বলেই দাবি সৌদি গণমাধ্যমে প্রকাশিত নানা খবরের।

এদিকে আল জাজিরায় প্রচারিত লিস্নিং পোস্ট অনুষ্ঠানে বলা হয়, সৌদি সরকারের অর্থায়নে দেশটির জনগণকে অসত্য প্রচারণার সম্মুখীন করা হচ্ছে। টুইটারে এমনই একটি সরকারি মদদপুষ্ট হ্যাশটাগ জনপ্রিয় হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে # জামালখাসোগজি শো। এর নিচেই লেখা রয়েছে এই নাটকটিতে অভিনয় করছে মুসলিম ব্রাদারহুড গুপ্তঘাতক, তুর্কি ও কাতারি গোয়েন্দা সংস্থা।

এই বিষয়ে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রামি খৌরি লিস্নিং পোস্ট অনুষ্ঠানের উপস্থাপক রিচার্ড গিজবার্ডকে বলেন, বর্তমান সৌদি প্রশাসন যে কোন ধরণের ভিন্ন মত প্রকাশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। শুধুমাত্র বিরোধী মত নয়, নুন্যতম ভিন্ন এবং গঠনমূলক চিন্তার অধিকারী সৌদি নাগরিকদের বিরুদ্ধে দমনাভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই ধরণের দমনপীড়নের চিত্র ঢাকতেই দেশটির গণমাধ্যমে মিথ্যে প্রচারণার বন্যা বইছে। খাসোগজি নিখোঁজ হওয়ার পর তা আরও ¯পষ্ট হচ্ছে। তবে সৌদি আরব বরাবরই গণমাধ্যমের প্রচারনায় কৌশলী ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেনি। তাদের গণসংযোগ ও প্রচারনায় যা অত্যন্ত ¯পষ্ট হয়ে উঠছে। আল জাজিরা, মার্কেট ওয়াচ