Skip to main content

খাসোগজিকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তুর্কি গোয়েন্দারা

নূর মাজিদ : তুরস্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, তুর্কি তদন্ত দল ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে ভিন্নমতালম্বি সাংবাদিক জামাল খাসোগজিকে হত্যা করা হয়েছে এমন প্রমাণ পেয়েছে। তুর্কি কর্তৃপক্ষ গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করে। দেশটির তদন্তকারী দলের কর্মকর্তারা এসময় সৌদি দূতাবাসের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি পরিচালনা করেন এবং আলামত সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। তুর্কি অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে তুর্কি দৈনিক জামাল এল-সাহায়াল জানায়, সৌদি কূটনীতিক মিশনে আমরা বেশ কিছু চিহ্ন বা অপরাধের আলামত মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে এমন প্রমাণ পেয়েছি। ফলে খাসগিজিকে সৌদি কনস্যুলেটেই হত্যা করা হয়েছে আমাদের প্রাথমিক অভিযোগ যে সত্যি ছিলো প্রাপ্ত আলামত সেদিকেই দিক নির্দেশ করছে। ইতোপূর্বে তুরস্ক জানায়, খাসোগিকে হত্যা করতে সৌদি থেকে যে গুপ্তঘাতক দল এসিছিলো তাতে দেশটির বিশেষ বাহিনীর একজন ময়নাতদন্ত বিশেষজ্ঞও ছিলেন। ফলে খাসোগজির হত্যাকান্ডের আলামত খুব নিখুঁতভাবে ঢাকার চেষ্টা করেছে সৌদি আরব। খাসোগজি নিখোঁজ রহস্য সমাধানে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যথেষ্ট সহায়ক হবে বলেও জানান অজ্ঞাত ওই তুর্কি কর্মকর্তা। তুরস্কের দাবি নির্যাতন করে হত্যার পরেই খাসোগজিকে সৌদি কনস্যুলেটে খন্ড- বিখন্ড করে তার লাশ গুম করা হয়েছে। খাসোগজি নিখোঁজ হবার ১৩ দিন পরে সোমবার এরদোগান বাদশাহ ফয়সালের মাঝে এক সরাসরি ফোনালাপ হয়। এরপরেই তুর্কি কর্মকর্তারা সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের অনুমতি পান। এদিকে গতকাল সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে দেখা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক প¤েপও। এসময় তিনি সৌদি বাদশাহের কাছে জামাল খাসোগজি নিখোঁজের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ তুলে ধরেন। এসময় তারা একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও অংশ নেন, সেখানে তাদের মাঝে কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। এদিকে সৌদি সফরে দেশটির অঘোষিত শাসক ও ক্ষমতার কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও বৈঠক করবেন পম্পেও। এরপরে তিনি তুরস্কে যাবেন, সেখানে তুর্কি গোয়ান্দারা খাসোগজি নিখোঁজের তদন্ত করছেন। এদিকে পম্পেও এমন সময় এই সফর করছেন যখন মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন সৌদি সরকার সংশ্লিষ্ট একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সৌদি আরব খাসোগজি নিহতের দায়িত্ব স্বীকার করার চিন্তা-ভাবনা করছে। তবে এই বিষয়ে তারা দাবি করতে পারে সৌদি প্রশাসনের কিছু উগ্রবাদি সদস্য শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতি না নিয়েই এই হত্যা অভিযান পরিচালনা করছে। ইতোপূর্বে মার্কিন সিনেটের বিদেশ নীতি বিষয়ক কমিটির কাছে জমা দেয়া গোয়ান্দা তথ্যে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া রাজ্যের অধিবাসি জামাল খাসোগজিকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছিল সৌদি গোয়েন্দারা। সৌদি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমতি নিয়েই এই হত্যা পরিকল্পনা করে সৌদি ঘাতকেরা। আল জাজিরা/ সিএনএন/ বিবিসি/ গার্ডিয়ান

অন্যান্য সংবাদ