প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বরিশালে পাঁচ বছরে ১৭১ বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল : দক্ষিণাঞ্চলে ক্রমশ বাড়ছে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা। গত পাঁচ বছরে প্রতি ১৩ দিনে উদ্ধার হয়েছে একটি করে বেওয়ারিশ লাশ। ওই লাশগুলোর পরিচয় না পাওয়ায় ঘাতকদের চিহ্নিত করাও সম্ভব হয়নি। বিগত পাঁচ বছরে বরিশাল জেলায় উদ্ধার হয়েছে ১৭১টি বেওয়ারিশ লাশ। বরিশাল আঞ্জুমান-ই হেমায়েত গোরস্থানের তথ্যে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।

বছর হিসেবে ২০১৩ সালে ২৯টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়েছে। এদের কাউকে এখন পর্যন্ত সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ২০১৪ সালে ৩৩ জন। ২০১৫ সালে ৩২ জন। ২০১৬ সালে ৩১ জন। ২০১৭ সালে ১৭ জন এবং ২০১৮ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত ২৯ জন ব্যক্তিকে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। এদের কাউকে এখন পর্যন্ত সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সূত্রমতে, ২০১৭ সালের ৬ অক্টোর নগরীর সাগরদীর খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন দুপুরে সাগরদী দড়গাহ্ বাড়ির পাঁচপীর জামে মসজিদের ওপর পাশে খালে লাশটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে। লাশের বুকে ও চোখের উপর আঘাতের চিহ্ন ছিলো। কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই মশিউর রহমান জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ বছর হতে পারে।

২০১৮ সালের ৯ মার্চ কীর্তনখোলা নদী থেকে অজ্ঞাত এক মুসুল্লীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওইদিন সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চরমোনাই লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অজ্ঞাত এ লাশ উদ্ধার করা হয়। সদর নৌ-থানার এসআই সোহাগ ফকির বলেন, লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তার বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছরের মতো হবে। একই বছরের ৩ অক্টোবর বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওইদিন বিকেলে উপজেলার বাইপাস সড়কের কুয়াতিয়ারপাড় এলাকার মা ক্লিনিকের সামনে স্থানীয়রা অজ্ঞাত পরিচয় ওই নারীর লাশ দেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করে।

সঠিক কোন পরিচয় না পাওয়ায় ওইদিন বাদ মাগরিব থানা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার ফুল্লশ্রী সুজনকাঠী গ্রামের নূর-এ-মদিনা মসজিদের গণকবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। ১১ অক্টোবর বরিশালের হিজলা উপজেলা সদরের একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৭০ বছর বয়সের অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়। হিজলা থানার ওসি মাকসুদুর রহমান জানান, চৌধুরী বাড়ির সড়কের পাশে ডোবার মধ্যে স্থানীয়রা লাশ দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।

জেলা পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশগুলো উদ্ধারের পর আশেপাশের থানাগুলোতে ম্যাসেজ পাঠানো হয়। কিন্তু উদ্ধারকৃত অধিকাংশ অজ্ঞাত লাশের পরিচয় না পাওয়ায় পরবর্তীতে বেওয়ারিশ হিসেবেই লাশগুলো দাফন করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ