প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দিল ন্যাপ ও এনডিপি

শিহাবুল ইসলাম : বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক দল বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ (ন্যাপ) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) জোটের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে, বের হয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে।

রাজধানীর গুলশান ১ এর ইমানুয়েলস ব্যাঙ্কুয়েট হলে মঙ্গলবার বিকেলে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন তারা এ ঘোষণা দেন।

দুই দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ন্যাপ এর চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি বলেন, বিএনপি নেতৃত্বে জোটের শরিক হিসেবে আমরা আমাদের সাধ্যমত অবদান রাখার সচেষ্ঠ ছিলাম। নিজেদের মতবিরোধ ও মতপার্থক্য থাকলেও জোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সকল সময় আমরা আন্তরিক ছিলাম।

তিনি বলেন, এমনকি ২০১৪ সালের নির্বাচনে নানা ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব থাকার পরও জোটের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো কেউ তৎকালীন ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করে নাই, তাই এই ত্যাগকে বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে কোন রকম মূল্যায়ন করেছেন বলে আমাদের নিকট কখনোই মনে হয়নি। বরং তাদের কথাবার্তায় মনে হয়েছে তারা ছাড়া আমরা যাব কোথায়। গতকাল সোমবার ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে বিএনপির উপস্থিত নেতৃত্ব বলছেন, তাদের উপর আজকে যে ঝড় কিংবা রাজনৈতিক চাপ তা শুধু মাত্র ২০ দলীয় জোটের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। এ জোট না থাকলে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখোমুখি হত না।

এসময় জেবেল রহমান বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের কারণে কেউ চাপে থাকুক সেটা আমরা প্রত্যাশা করি না। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে এই দলগুলো তাদের পাশে ছিল বলেই তারা তাদের অনেক ব্যর্থতার কিছু ভাগ দিতে পারেন। না থাকলে সেটি হয়তো সম্ভব হতো না।

জাতীয়ঐক্য প্রক্রিয়া তারা পর্যবেক্ষণ করেছে জানিয়ে বলেন, গত ১৩ ই অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামক একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। দুঃখজনক হলেও সত্য ঐক্যফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করতে গিয়ে বিএনপি ও তার নতুন বন্ধুরা যে সকল ঘটনার ঘটিয়েছেন তা সত্যিই দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাথে ঐক্যফ্রন্ট সংগঠনের নায়কদের আচরণ সমগ্র জাতির সাথে আমাদেরও হতাশ করেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি সাথে এ ধরনের আচরণ রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।

বাংলাদেশ ন্যাপের এই চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে যাদের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে তারা প্রায় সকলেই ওয়ান-ইলেভেনের অরাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাদের অনেকেই মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত ছিলেন। এমনকি বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজকে যে মামলায় কারাগারে রয়েছেন সে মামলার নেপথ্যের নায়ক ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিন সরকারের উপদেষ্টা যখন বিএনপির পাশে অবস্থান করেন, তখন আমরা ব্যথিত হই আতঙ্কিত হই এই ভেবে যেশুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা কি একটি অগণতান্ত্রিক ও অশুভ শক্তিকে ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্রের অংশ হতে যাচ্ছি কিনা। আমরা সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে। শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদলের নামে কোন অশুভ শক্তির ক্ষমতা গ্রহণ করে আবারো দেশকে রাজনীতি শূন্য করার কোন অপচেষ্টায় অংশগ্রহণ করে একটি রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে আমরা প্রত্যাশা করি না।

জোট থেকে বের হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এই সকল বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক বিএনপি সব সময়ই তার শরিকদের অন্ধকারে রাখার অপচেষ্টা করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই কাছাকাছি সময়ে, সেই বিষয়ে ও বিএনপি তার শরিকদের পরিষ্কার অবস্থা ব্যাখ্যা করেনাই, জোটের বিভিন্ন বৈঠকে জোট শরিকদের মনোনয়ন বিষয়টি সামনে আনতে চাইলে বিএনপি কৌশলে তা এড়িয়ে যায়, আর ওয়ান ইলেভেন কুশীলব মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়ন কারীরা যখন জাতীয় ঐক্যের নামে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, এতে আমরা মনে করি বিএনপির তার সকল রাজনৈতিক নৈতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এ পেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বার্থে আজকে এই মুহূর্ত থেকে জোটের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ন্যাপ এর মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, এনডিপি’র চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা সহ উভয় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং যুগ্ম মহাসচিব।