প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারায়ণগঞ্জে এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার

মনজুর আহমেদ অনিক, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে দরিদ্র ঘরের এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে রাতভর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় ধর্ষিতার মা চার ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তারা হলেন, গোপালদী পৌরসভার ছোট মোল্যারচর এলাকার আব্বাছ আলীর ছেলে শেখ ফরিদ (২২), চাচা নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাইফুল (২৫), প্রতিবেশী ইব্রাহিমের ছেলে সফিকুল (২০) ও অজ্ঞাত আরো একজন।

ধর্ষিতার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৫অক্টোবর) রাত ৭টার দিকে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার ছোট মোল্যারচর এলাকার দরিদ্র পরিবারের কিশোরী (১৫) রান্না ঘরে ভাত রান্না করছিল। ওই সময় চার ধর্ষক মিলে কিশোরিটিকে জোর করে মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যায়। কিশোরিটিকে মোল্যারচর এলাকার আজিজ মাষ্টারের বাগানে নির্জন স্থানে নিয়ে তার হাত ও মুখ লুঙ্গি দিয়ে বেঁধে গণধর্ষণ করে।

ওই সময় কিশোরিটির প্রচন্ড রক্ত ক্ষরনের কারণে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে চার নরপশু তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে চলে আসে। রাত ৯টার দিকে ধর্ষিতা কোন মতে বাড়িতে এসে পিতা-মাতাকে ঘটনাটি জানালে রাতেই ধর্ষিতাকে নিয়ে থানা পুলিশের শরনাপন্ন হয় ধর্ষিতার মা। পুলিশ রাতে ধর্ষিতাকে কোন সহযোগিতা না করে তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে ধর্ষিতার মা ধর্ষিতাকে রাতে আড়াইহাজার সরকারী হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কিন্তু ধর্ষকদের লোকজন থানা ও হাসপাতালের লোকজন ম্যানেজ করে গভীর রাতে ঢাকা মেডিকেল থেকে ধর্ষিতাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় প্রভাবশালী ধর্ষকদের আত্মীয় ইয়াকুব ও আলাউদ্দিন ধর্ষিতার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাইয়া মিমাংসার চেষ্টা করে। ঘটনাটি গণমাধ্যম কর্মীরা জেনে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞান ধর্ষিতাকে তাদের পরিবারের সহযোগিতায় উপজেলা স্থান্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করলে থানা পুলিশের টনক নড়ে।

ধর্ষিতার মা জানান, রাতে থানায় গেলেও পুলিশ তার মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিলেও তারা তাদেরকে কোন সহযোগিতা করেনি। ধর্ষকদের লোকজন রাত থেকেই তাদের পিছু নিয়ে থানা ও হাসপাতালে প্রভাব বিস্তার করে। মঙ্গলবার গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায় ধর্ষিতার মা চার ধর্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,সকালে খবর পেয়ে এ ব্যাপারে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত